বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের তরফভাইখা গ্রামে গরু চুরির সন্দেহে রুবেল দালাল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের বাড়ির আশপাশে কুকুরের অস্বাভাবিক ঘেউ ঘেউ শব্দে এলাকাবাসীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি আতঙ্কিত হয়ে দিক পরিবর্তন করে আল আমিনের বাড়ির দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন এবং পরে ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৪০ জন লোক তাকে ধাওয়া করছিল। তবে আশপাশের লোকজন খোঁজ নিয়ে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাননি।
পরে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, গোড়দহ গ্রামের গরু ব্যবসায়ী উজ্জ্বলের কাছে তার প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা রয়েছে এবং সেই টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি এলাকায় এসেছিলেন। আটক ব্যক্তি একই উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের হাতীবান্ধা গ্রামের মো. সামাদের ছেলে মো. রুবেল দালাল বলে পরিচয় দেন।
এদিকে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তারা হাতীবান্ধা ও দুর্গাহাটা এলাকার পরিচিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রুবেলের দেওয়া পরিচয় ও ঠিকানা সঠিক। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অতীতে গরু চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এমনকি পূর্বে গরু চুরির মামলায় তিনি ডিবি পুলিশের হাতেও আটক হয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছে তথ্য দেন তারা।
আটক ব্যক্তির কাছে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ছয়টি রুটি, একটি লুঙ্গি ও একটি গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দুই দিন আগেও তাকে ওই এলাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল, যা তাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুবেল বিষয়টি স্বীকার করেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পর উজ্জ্বল নামে ওই গরু ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার সঙ্গে আটক রুবেলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কথাবার্তা হয়। এ সময় স্থানীয়রা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলে উজ্জ্বল সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে জনতার প্রশ্নের মুখে তিনি কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বাড়ির মালিক আল আমিন বলেন, “আমার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আমরা সন্দেহ করছি। পোষা কুকুরের কারণে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে আটক ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা।”
পরে স্থানীয়রা আটক রুবেল দালালকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।