দীর্ঘ দুই যুগের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও পাঠকের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে বগুড়ার ধুনট পাবলিক লাইব্রেরি। স্থানীয় একদল স্বেচ্ছাসেবীর উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর লাইব্রেরির দরজা খুলেছে পাঠকদের জন্য। তবে পুরোনো ও অপ্রতুল বই, জনবল সংকট এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এই উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকার কারণে লাইব্রেরিটি অনেকটাই অচল অবস্থায় চলে গিয়েছিল। নিয়মিত পাঠক আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বই ও আসবাবপত্রেরও যথাযথ সংরক্ষণ হয়নি। সম্প্রতি কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী এগিয়ে এসে লাইব্রেরিটি আবার চালুর উদ্যোগ নেন। তাদের প্রচেষ্টায় নতুন করে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
তবে বর্তমানে লাইব্রেরিতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বই নেই। পুরোনো অনেক বই নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আধুনিক পাঠাগারের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও সেখানে সীমিত।
লাইব্রেরির এই সংকট কাটাতে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টিকেও কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের দাবি, নতুন ভবনে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য পৃথক, প্রশস্ত ও আধুনিক একটি স্থান নির্ধারণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পাঠাগারটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
বগুড়া জেলা গ্রন্থাগারের সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান রেমিনা জান্নাত জানান, ধুনট পাবলিক লাইব্রেরিটি জেলা গ্রন্থাগারের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে সেখানে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োজিত নেই।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং লাইব্রেরির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জেলা গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে সরাসরি জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। তবে অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের সহায়তা এলে তা গ্রহণ করে লাইব্রেরির উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।
লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা ও বইয়ের সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, লাইব্রেরিটি নিয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্কারকাজ, নতুন বই সংগ্রহ এবং আধুনিকায়নের জন্য ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের কাছে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পাঠকদের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে।
স্থানীয় পাঠক ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ধুনট পাবলিক লাইব্রেরি শুধু পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকবে না, বরং নতুন প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থা পেরিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের হাত ধরে লাইব্রেরিটিতে যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, সেটিকে স্থায়ী রূপ দিতে এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা। পর্যাপ্ত বই, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে ধুনটের এই একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি আবারও নিয়মিত পাঠচর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। প্রশাসনের প্রতিশ্রুত বরাদ্দ ও উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।