সাতক্ষীরার তালায় তুচ্ছ ঘটনায় খেশরা ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন কে পিটিয়ে নাক ভেঙে দিল ইউনিয়ন যুবদল নেতা ডাবলু বিশ্বাস ও তার ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টো বিশ্বাস। এসময় তারা বাড়িতে গিয়ে বিল্লালের বৃদ্ধ পিতা নিজাম মোড়ল ও তার মা রিজিয়া বেগম কে পিটিয়ে আহত করে। তারা ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সবুর বিশ্বাসের ছেলে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী হয় বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তালার শাহাজাতপুর গ্রামের জামাল হোসেন বালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আজিবরের কাছে থেকে ১ বছর পূর্বে ধান ক্রয় করেন। ধানের দাম কম হওয়ায় জামাল হোসেন ধান নিতে দেরি করে। এক বছর পরে এসে সে ধান না পেয়ে টাকা ফেরত চায়। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জামাল কে আজিবর মারধর করে। সে নিরুপায় হয়ে বিল্লালের কাছে মিমাংসার জন্য যায়। এসময় স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু হাসান বিল্লাল হোসেন কে বাড়ির রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বালু ফেলার পরামর্শ দেন। খেশরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়ি ও ইউপি সদস্য বিল্লালের বাড়ি একই রাস্তায় ও পাশাপাশি। এই নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে ডাবলু ও জুলফিকার বিল্লালের উপর চড়াও হয় এবং ঘুষি মেরে নাক ভেঙে দেয়। এসময় তারা দুই ভাই নিলে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিল্লালের বাড়িতে চড়াও হয় এবং মা বাবাকে গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যাপক মারধর করে অচেতন অবস্থায় ফেলে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, শাহাজাতপুরের সাবেক সেনা সদস্য জামাল হোসেন কে বালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আজিবর রহমান মারধর করে। সে আমার কাছে বিচারের জন্য আসে। আমি তাদের কথা শুনছিলাম। এসময় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সবুর বিশ্বাসের ছেলে ডাবলু ও জুলফিকার আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ব্যাপক মারপিট করে। ডাবলুর রডের আঘাতে আমার নাক ভেঙে যায়। আমি আহত অবস্থায় পড়ে গেলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার আব্বা ও আম্মাকে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে বেদম মারপিট করে। এসময় আমার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা মৃত্যু ভেবে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তী করেন। একটু সুস্থ হয়ে থানায় মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর গাজী বলেন, বিল্লাল মেম্বরের মারার খবর শুনে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি তার মা আহত অবস্থায় উঠানে পড়ে আছে। তার পিতাও আহত অবস্থায় পড়ে আছে। তখন শাহিনুর সরদার, ইমরান জেয়াদ্দার, মিঠু মেম্বরের ছেলে ওয়ারিদ, মহব্বত মোড়ল, রনি মোড়লসহ কয়েকজন মিলে তাদের উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তী করি।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, একজন ইউপি সদস্য কে মারার খবর শুনেছি তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।