PriyoKhobor-PNG
মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:২৯
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

ব্যক্তিগত গাড়ি-মোটরসাইকেলে সরকারি লোগো ও পুলিশ স্টিকার অনুমোদনহীন নম্বর প্লেট ব্যবহারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

দৈনিক গণআওয়াজ
আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
| 16
Link Copied!

মো:মনিরুজ্জামান, খুলনা।

দেশের বিভিন্ন সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে সরকারি লোগো, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহনকারী স্টিকার, পুলিশ স্টিকার এবং অনুমোদনহীন নম্বর প্লেট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এসব যানবাহনের কিছু চালক সরকারি পরিচয়ের আড়ালে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক তৎপরতাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পরিচয় ব্যবহারের বৈধ অনুমোদন না থাকলে ব্যক্তিগত যানবাহনে এমন কোনো প্রতীক, স্টিকার বা পরিচয় ব্যবহার করা উচিত নয়, যা দেখে সাধারণ মানুষ ওই যানবাহনকে সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যান হিসেবে মনে করতে পারেন।

বিশেষ করে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলে ‘সরকার’, ‘পুলিশ’ কিংবা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহনকারী স্টিকার ব্যবহার করে রাস্তায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে তা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এসব পরিচয় ব্যবহার করে তল্লাশি বা আইনগত নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি পরিচয় ব্যবহারে অনুমোদনের প্রয়োজন

সরকারি লোগো, রাষ্ট্রীয় প্রতীক, সরকারি সিল বা কোনো নির্দিষ্ট সরকারি বিভাগের পরিচয় সাধারণ ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয় নয়। সরকারি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সম্পদে যে পরিচয় বা প্রতীক ব্যবহৃত হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত বিধিমালার আওতায় ব্যবহারের বিষয়।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি বা মোটরসাইকেলে এমন কোনো স্টিকার বা প্রতীক ব্যবহার করা হলে, যা সরকারি কর্তৃত্বের ভান তৈরি করে বা যানবাহনটিকে সরকারি হিসেবে উপস্থাপন করে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সড়ক পরিবহণ আইনে বিধান

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাধারণ নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ নির্ধারণ করেছে। আইনের ৯২ ধারায় ধারা ৪৯-এর সাধারণ নির্দেশাবলি লঙ্ঘনের জন্য দণ্ডের বিধান রয়েছে। ৯২(২) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড এবং চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের বিধান রয়েছে।

তবে সরকারি লোগো বা পুলিশ স্টিকার ব্যবহারের প্রতিটি ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯২(২) ধারার অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা আইনগতভাবে সঠিক নয়। কোন প্রতীক, স্টিকার বা নম্বর প্লেট কোন বিধান লঙ্ঘন করছে, তা নির্ভর করবে ব্যবহারের ধরন, অনুমোদন, যানবাহনের নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধিমালার ওপর।

বিআরটিএ অনুমোদিত নম্বর প্লেট নিশ্চিত করার দাবি

সরকারি লোগো বা স্টিকারের পাশাপাশি যানবাহনের নম্বর প্লেট নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্ধারিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে বিভিন্ন ডিজাইনের প্লেট, ভিন্ন ধরনের লেখা, অস্পষ্ট নম্বর কিংবা সরকারি পরিচয়ের আদলে তৈরি প্লেট ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি যানবাহনের নিবন্ধন ও নম্বর প্লেটের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বর প্লেট স্পষ্ট, পাঠযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নিয়ম অনুযায়ী রয়েছে কি না—তা ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযানের আওতায় আনা প্রয়োজন।

পুলিশ স্টিকার ব্যবহারে নজরদারি জরুরি

ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে ‘পুলিশ’, ‘প্রেস’, ‘সরকারি’, ‘মন্ত্রণালয়’ কিংবা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চলাচল করলে সেটির বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।

কারণ, এসব স্টিকার দেখে সাধারণ মানুষ অনেক সময় গাড়ি বা মোটরসাইকেলটির মালিককে সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বলে মনে করতে পারেন। এ ধরনের পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ যদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয় গোপনে ব্যবহার করেন বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের প্রতি ৫ দফা দাবি

সড়কে অনুমোদনহীন সরকারি লোগো, পুলিশ স্টিকার ও সরকারি পরিচয় বহনকারী প্রতীক ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা—

১. ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত সরকারি লোগো ও পুলিশ স্টিকারের বৈধতা যাচাই করা।

২. অনুমোদনহীন সরকারি পরিচয় ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

৩. বিআরটিএ অনুমোদিত নম্বর প্লেট ছাড়া বা বিকৃত/অস্পষ্ট নম্বর প্লেট ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।

৪. সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা।

৫. বৈধ সরকারি যানবাহন ও অনুমোদিত ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।

প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সড়কে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত যানবাহনে সরকারি পরিচয়ের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত সরকারি যানবাহন ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত স্টিকার বা প্রতীক যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ট্রাফিক পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সমন্বিতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

অনুমোদনহীন সরকারি লোগো, পুলিশ স্টিকার, সরকারি পরিচয় বহনকারী প্রতীক এবং অবৈধ বা অননুমোদিত নম্বর প্লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সড়কে শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে এক নারী আহত হাসপাতালে ভর্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST