
নজরুল ইসলাম,গাজীপুর।
একসময় ছিল শুধু স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে শুরু করেছিলেন মাছ চাষ। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১৭ বছর। এখন ১২৭ বিঘা জমিজুড়ে তার মাছের খামার। বছরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ। দীর্ঘ এই পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে এবার পেলেন গাজীপুরের শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষীর পুরস্কার।
তিনি মো. আবু তাহের মুসল্লী। গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার ‘আকসা আরাফাত মৎস্য খামারে’ গড়ে তুলেছেন নিজের সফলতার গল্প।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রোববার (১৬ আগস্ট) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়।
‘মৎস্য উৎপাদনে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। এতে সরকারি কর্মকর্তা, মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে মাছ চাষ শুরু করেন আবু তাহের মুসল্লী। ধীরে ধীরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে নিজের খামারকে বড় করেন। বর্তমানে ১২৭ বিঘা জমির ওপর তার খামার। সেখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে।
শুধু মাছ উৎপাদন নয়, নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং মৎস্যচাষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সরকারি সহযোগিতায় খামারে মাছের পোনা পরিবহনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুরস্কার পাওয়ার পর আবু তাহের মুসল্লী বলেন, ১৭ বছর ধরে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মাছ চাষ করে আসছি।একটি পুকুর থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ ১২৭ বিঘার খামার। এই স্বীকৃতি আমার পরিশ্রমকে আরোও উৎসাহিত করবে। যারা মৎস্যচাষে আসতে চান তাদের জন্য আমার খামার ও অভিজ্ঞতা উন্মুক্ত রাখতে চাই।
তার মতে, পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা গেলে এটি শুধু একজন উদ্যোক্তার ভাগ্যই বদলায় না, একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুরে মৎস্যচাষে সফল উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতির পাশাপাশি জনসচেতনতা ও প্রচারমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।


