যশোরের বেনাপোলে ৩ মাসের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করে স্বামীকে তালাক দেওয়ার পরদিনই অন্য জায়গায় বিয়ে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সাবেক স্বামীর ওপর নতুন স্বামীসহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ০৮/০৯/২০২৬ তারিখে যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সিসি ক্যামেরার নিচে এই হামলার শিকার হন ভুক্তভোগী সাবেক স্বামী মোঃ হামিদুর রহমান (৩৬)। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের মৃত সোলেমান রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় সাবেক স্ত্রী ও তার নতুন স্বামীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালত, যশোরে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৫/৩৭৯/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬/৩৪ ধারায় আরও একটি নতুন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ০৬/০৬/২০২৪ তারিখে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক এক লক্ষ টাকা দেনমোহরে গাজীপুর গ্রামের মোঃ রেজাউল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ তাওহিদা আক্তার স্মৃতির (২৫) সাথে হামিদুর রহমানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর স্ত্রীর ভবিষ্যতের সুরক্ষায় ০৭/০৭/২০২৪ তারিখে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে স্মৃতির নিকট ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা রাখা হয়। শর্ত ছিল, স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে সংসার না করে তবে উক্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু সংসার জীবন অতিবাহিত করা কালে স্মৃতি ৩ মাসের গর্ভবতী হলেও, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করে। স্বামীকে না জানিয়ে গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখে “স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে ডিভোর্স” এর নোটিশ পাঠান। এর আগের দিন ১২/০৬/২০২৬ তারিখে তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে নগদ ৫৫,৬৫০/- টাকা এবং মোট ৪ ভরি ১২ আনা ২৫ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যান।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, ১৩/০৬/২০২৬ তারিখে হামিদুর রহমানকে তালাকের নোটিশ পাঠানোর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ১৪/০৬/২০২৬ তারিখে স্মৃতি মোঃ মুক্তার হোসেন (৩১) নামের অপর এক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। ভুক্তভোগী হামিদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাওহিদা আক্তার স্মৃতি একজন পেশাদার প্রতারক। সে এর আগেও একাধিক বিবাহ করে স্বামীদের ব্ল্যাকমেইল করেছে এবং তাদের কাছ থেকে একইভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে। তিনি মূলত এই প্রতারক চক্রের সর্বশেষ শিকার।
পূর্ববর্তী অর্থ আত্মসাত ও সন্তান নষ্টের মামলায় গত ০৮/০৯/২০২৬ ইং তারিখ মঙ্গলবার দুপুর ১২.৫০ ঘটিকায় বাদী হামিদুর রহমান আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত ভবনের নিচে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাবেক স্ত্রী তাওহিদা আক্তার স্মৃতি, তার বর্তমান স্বামী মোঃ মুক্তার হোসেন, সহযোগী মোঃ রায়হান হোসেন (২৭) ও মোঃ সিয়াম আলী (২৫) সহ একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আসামিরা সিসি ক্যামেরার ঠিক নিচেই হামিদুর রহমানকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে এবং তার সব কয়টা মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা বাদীর পকেটে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আদালতের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামিরা বাদীকে খুন ও গুমের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এই দুঃসাহসিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।