বগুড়ার নন্দীগ্রামে ক্যান্সারের সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে লড়াই করছেন মোছা. মোমেনা বিবি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও কেমোথেরাপির ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়েছে। বিক্রি করতে হয়েছে জমিজমা, গহনা, ভিটেমাটি ও ঘরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এখন চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, পরিবারের সদস্যদের নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।মোমেনা বিবি নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪ নম্বর থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামের মৃত রমজানের স্ত্রী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে তাঁকে।পরিবারের সদস্যরা জানান, ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মোমেনার চিকিৎসা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে নিয়মিত কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। প্রতিবার কেমোথেরাপির পেছনে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ পর্যন্ত চিকিৎসা বাবদ প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গিয়ে পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে গেছে। জমিজমা ও গহনা বিক্রির পাশাপাশি ভিটেমাটি এবং ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্রও বিক্রি করতে হয়েছে। তবুও চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে মোমেনার চিকিৎসা, অন্যদিকে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ—দুইয়ের ভার সামলাতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোমেনা বিবি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। অর্থের অভাবে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া না গেলে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।মোমেনা বিবি বলেন, “আমি বাঁচতে চাই। ছেলে-মেয়ে ও তাদের পরিবারকে নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আমার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।”
ক্যান্সারে আক্রান্ত মোমেনার চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক মানুষ, প্রবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহায়তায় মোমেনার চিকিৎসা আবারও নিয়মিত করা সম্ভব হবে এবং তিনি ফিরে পাবেন স্বাভাবিক জীবনের আশা।
মোমেনা বিবির পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার জন্য বিকাশ নম্বর: ০১৭৮৮২৩৬৬২৬।