PriyoKhobor-PNG
সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:০১
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

কচুবুনিয়া স্লুইসগেটে বড় ধস, জোয়ারের পানিতে প্লাবনের শঙ্কা- ৩ টি ইউনিয়ন

দৈনিক গণআওয়াজ
আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৫:১৯ অপরাহ্ণ
| 30
Link Copied!

এফ,এম,এ রাজ্জাক, পাইকগাছা (খুলনা)

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া স্লুইসগেটে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। স্লুইসগেটের তিনটি অংশের একটি অংশের বিশাল অংশ নিচের দিকে দেবে গেছে। অপর দুটি অংশও দেবে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে শিবসা নদীর জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট রাতের কোনো একসময় শিবসা নদীতে জোয়ারের পানি বাড়ার সময় কচুবুনিয়া স্লুইসগেটের কাঠামোতে হঠাৎ ফাটল দেখা দেয়। পরে স্লুইসগেটের একটি অংশের বড় একটি অংশ ধসে নিচের দিকে দেবে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই পানি নিয়ন্ত্রণ স্থাপনাটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কচুবুনিয়া ও আশপাশের এলাকা নদী-খাল ও নিম্নাঞ্চলবেষ্টিত হওয়ায় শিবসা নদীর জোয়ার-ভাটার তীব্র চাপ সরাসরি স্লুইসগেটের ওপর পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

১৬-১৭ পোল্ডারের আওতাধীন এই স্লুইসগেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গদাইপুর, কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হাসান গাজী বলেন, স্লুইসগেট দিয়ে পানি অবাধে প্রবেশ করলে তিনটি ইউনিয়নের মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘেরসহ বিপুল সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ভেঙে পড়লে কচুবুনিয়াসহ শ্যামনগর, আগরঘাটা, কাজিমুছা, মালতি, গদাইপুর, তকিয়া ও মঠবাটী এলাকার বসতি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

এদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গদাইপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান বলেন, স্লুইসগেটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্বভাবে কাজ করার মতো কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ বা দায়িত্ব নেই। তবে প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলে কাজ করা হবে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানান।

স্লুইসগেটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও জরুরি মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসও রাজু হাওলাদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে একটি স্লুইসগেট বা বাঁধের সামান্য ক্ষতিও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে কৃষিজমি, মৎস্যঘের, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিতে পারে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইসগেটটি দ্রুত পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, সাময়িক জোড়াতালি নয়, স্লুইসগেটটির কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্লাবন ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছায় ড্রেনেজ বিহীন সড়ক নির্মাণে জলাবদ্ধতা
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST