PriyoKhobor-PNG
শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪৯
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

দীর্ঘ ১৫ বছর শিকল বন্দি জীবন, মানষিক প্রতিবন্ধী মিতুকে নিয়ে অসহায় পরিবার!

দৈনিক গণআওয়াজ
আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
| 37
Link Copied!
কে এম শাহীনুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মানষিক ভারসাম্যহীন মিতু (২৪) কে নিয়ে অসহায় পরিবার। জন্মই হয়েছে তার আজীবনের পাপ। মানষিক প্রতিবন্ধী নিয়েই সে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে বুঝতে  না পারলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকাশ পেতে থাকে তার মানষিক ভারসাম্যহীনতা। ৮ বছর বয়সে অতি মাত্রায় সমস্যা শুরু হলে পরিবারের লোকজন শিকলে বেঁধে রাখা শুরু করে। সংসারে অভাব অনাটনের জন্য দিতে পারেনি সঠিক চিকিৎসা। সে উপজেলার প্রশাদপুর গ্রামের মৃত্যু আবুল হোসেন মোড়ল ও হাসিনা বেগমের ২য় সন্তান। এছাড়াও তাদের মিতা খাতুন ও বাবরালী নামে ২ টি ছেলে মেয়ে আছে।
‎সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে আব্দুল করিম, সুফিয়া বেগম, সফিকুল ইসলাম সহ অনেকেই বলেন, মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছিল সেই ছোটবেলা থেকেই। একটু সুযোগ পেলেই কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়িতে থেকে চলে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। দীর্ঘসময় খোঁজাখুঁজির করে তাকে বাড়িতে আনতে হতো। প্রতিদিন এভাবে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার কারণে কোন উপায় না পেয়ে তার দুই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে শুরু করে তার মা । এ সময়ে সে পায়ের শিকল খুলে দেয়ার জন্য খুব কান্নাকাটি করতো। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হতো। অভাবের কারণেই অসুস্থ মেয়েটিকে ভালোভাবে খাওয়াতেই পারে না, সেখানে চিকিৎসা করবে কিভাবে । ফলে সময়ের সাথে সাথে তা দুই পায়ে শিকল যেমন স্থায়ী হয়েছে তেমনি স্থায়ী হয়েছে তার ঘরবন্দী জীবনও। উন্নত  চিকিৎসা পেলে তার ভাল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। এই অসুস্থ মেয়েটির চিকিৎসার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তারা।
‎মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, ছোটবেলা থেকেই আমরা তার সমস্যা বুঝতে পেরে সাধ্যমত চেষ্টা করি চিকিৎসার জন্য। আর্থিক  সমস্যার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো ডাক্তারের কাছে  নিতে পারেনি। কোন মা চায় তার সন্তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে। দেখতে না দেখতেই ১৫ বছর হয়ে গেল মেয়েটির শিকল বন্দি জীবন। সঠিক চিকিৎসা পেলে মেয়েটি হয়তো ভাল হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
‎তিনি বলেন, মিতুর বাবা আবুল মোড়ল ৮ বছর আগে মারা যাওয়ার কারণে সংসারের সকল দায়িত্ব পড়ে আমার উপর। বড় মেয়েটির বিয়ে হয়ে চলে যায় নিজের  সংসারে। ছেলেটি ঢাকায় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে যে বেতন পায় তা থেকে সামান্য টাকা বাড়িতে পাঠায়। তা দিয়ে সংসার চলে না। সেজন্য অসুস্থ মেয়েটিকে বাড়ীতে বড় মেয়ের কাছে রেখে ঢাকায় এক নৌ কর্মকর্তার বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন।
‎বড় বোন মিতা বলেন, অভাবের কারণে মা ও ছোট ভাই ঢাকায় কাজ করে। পাগল বোনটাকে দেখার কেউ নেই। তাই সংসার ফেলে বাবার বাড়িতে থেকে  তার দেখাশুনা করি। সে মাঝে মধ্যে শিকল কেটে পালিয়ে যায়। ঠিকমতো খাবার না পেয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ কিছু দিলে খায় তবে কারো কাছে সে চায় না।
‎খলিলনগর ইউপি সদস্য লিয়াকত মোড়ল জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। পরিষদ থেকে এখনো কোনো সহযোগিতা করতে পারেনি ।
‎খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, দীর্ঘদিন যাবত মিতু অমানবিক জীবনযাপন করছে, তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেয়া হয়েছে। এটা তার জন্য যথেষ্ট নয়। তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
‎তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, কিছুদিন পূর্বে পরিষদের পক্ষ থেকে খদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছিলো। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ  নওগাঁর পোরশায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক চেক বিতরণ। 
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST