নওগাঁয় অপহরণ করে ২০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী এবং মুক্তিপণ না পেয়ে নন জুড়িশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয় এক ব্যবসায়ীকে।এ সংক্রান্ত নওগাঁ ১০ নং আমলী আদালতে একটি মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সস্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী (অপহৃত) হাসানুজ্জামান ।এসময় উপস্থিত ছিলেন হাসানুজ্জামানের স্ত্রী যুথি খানম ও দুই কন্যা।সংবাদ সস্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১১আগস্ট সকালে ব্যক্তিগত কাজে নওগাঁ আদালতে যাই। আদালতের কার্যক্রম সেরে দুপুর ৩টার সময় বাড়ি আসার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে পৌছালে পূর্বে ওঁত পেতে থাকা নওগাঁর আত্রাই থানার পাঁচুপুর
গ্রামের কাউছার আলীর ছেলে মোমিনুল ইসলাম জোহা(২২), বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সাঁতাহার (আদর্শপাড়া) এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে সুমন হোসেন(৪২) এবং সুমনের স্ত্রী আরজু সহ আরো ১০-১২জন আমাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে সেখানে আটকে রাখে।এরপর ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার সময় দুইটা মোবাইল নাম্বার যথাক্রমে ০১৭৩৪-৫৬৯৯১৩ এবং ০১৭১২-০৭০২৭৫ হইতে আমার স্ত্রী যুথি খানমকে মোবাইল ফোন করে আমার মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে বা ঘটনাটি পুলিশকে জানালে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। আটকের সময় আমাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখায় ।
পরের দিন ১২ আগস্ট বেলা ১১টার সময় রানীনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে আমার সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি রেজিস্ট্রি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করে ৬টি ফাঁকা নন-জুড়িশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং অপহরণকারীরা স্বীকারোক্তমুলক ভিডিও করে রাখে।
অপহরণ বিষয়ে আমার স্ত্রী যুথি খানম নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। ১৩ আগস্ট বিকেল ৬টার সময় অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্তি লাভের পর নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হই। কিন্তু অপহরণকারীরা হাসপাতালে এসে হুমকি দিলে সেখান থেকে পালিয়ে রক্ষা পাই।
এ ঘটনায় নওগাঁ ১০নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। যার নং-সিআর মামলা- ২৭৯/২০২০ইং (রানী)।ভুক্তভুগি অপহৃত হাসানুজ্জামান বলেন, আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।