দিনাজপুরের বিরামপুরে বিনোদন কেন্দ্র একুয়া থিম পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনের ৮টি কক্ষ সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ তানজিনা খাতুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,বিরামপুর পৌর শহরের মির্জাপুর মোড়ে অবস্থিত একুয়া থিম পার্কের ভেতরে রেস্ট হাউজের আদলে তৈরি আবাসিক ভবনের কক্ষগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উঠতি বয়সী তরুণ তরুণীদের অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একুয়া থিম পার্কে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ তানজিনা খাতুন। অভিযান কালে পার্কের ভেতরে থাকা আবাসিক ভবনের ৮টি কক্ষ পরিদর্শন করা হয়। প্রশাসনের দাবি,কক্ষগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপের আলামত পাওয়া যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে সিলগালা করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকটি কক্ষের ভেতরে এবং জানালার আশ পাশে কনডম ও ব্যবহৃত কনডমের অংশ দেখতে পাওয়া যায় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় পার্কের আবাসিক ভবনটি নিয়ে নতুন করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, পার্কের ভেতরের বিভিন্ন ঝোপঝাড়ে স্কুল কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পার্কে কর্মরত ব্যক্তিরা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি,বিনোদন কেন্দ্রের আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে না পারে,সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ তানজিনা খাতুন জানান,“একুয়া থিম পার্কের ভিতরে আবাসিক ভবনের কক্ষগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ মেলায় ৮টি কক্ষ তালা দিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। পরবর্তীতে পার্কের ভিতরে কোনো ধরনের অসামাজিক কাজ যেন না হয়, সেজন্য পার্কে দায়িত্বে থাকা লোকজনকেও সতর্ক করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।