
মুশফিকুর রহমান, ফরিদপুর (বোয়ালমারী) প্রতিনিধি :
ফরিদেরপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাময়িক বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ মো: ফরিদ আহমেদ এবং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি ও অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজ ক্যাম্পাস।
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত অধ্যক্ষ মো: ফরিদ আহমেদ কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন।
বক্তারা বলেন, বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের নানা অসদাচরণ এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কলেজের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এদিকে নিজের সাময়িক বরখাস্তের আদেশকে বেআইনি ও নিয়মবহির্ভূত দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অধ্যক্ষ মো: ফরিদ আহমেদ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাকে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, তার বাসভবনে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং তাকে জোরপূর্বক কলেজে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি মহল কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক আচরণ বলে আখ্যা দেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
একই কলেজকে কেন্দ্র করে একদিকে মানববন্ধন ও অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


