PriyoKhobor-PNG
মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:১৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর
শিরোনাম :

সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন? সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা

দৈনিক গণআওয়াজ
জুন ১৫, ২০২৬ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
| 28
Link Copied!

 সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম:

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো রাজনীতি ও সাংবাদিকতা। রাজনীতি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, দর্শন ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে; অন্যদিকে সাংবাদিকতা রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জনস্বার্থের আলোকে পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং জনজবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসে। এ কারণেই উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকতাকে প্রায়শই ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যে সাংবাদিক জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবেন, তিনি যদি একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী, নেতা কিংবা পদধারী হন, তাহলে তাঁর পেশাগত নিরপেক্ষতা কতটা বিশ্বাসযোগ্য থাকবে?

এই প্রশ্ন শুধু বাংলাদেশের নয়; এটি আজ বিশ্বব্যাপী আলোচিত গণমাধ্যম-নৈতিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর অধিকাংশ গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম সাংবাদিকদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণেই অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের কর্মীদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রচারণা, দলীয় পদ গ্রহণ কিংবা সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেয়। কারণ তারা বিশ্বাস করে, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের আস্থা; আর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সেই আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

সাংবাদিকতার মূল শক্তি তথ্যের সত্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতায়। পাঠক যখন একটি সংবাদ পড়েন কিংবা দর্শক কোনো প্রতিবেদন দেখেন, তখন তারা ধরে নিতে চান যে সেখানে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত কিংবা দলীয় স্বার্থের প্রভাব নেই। কিন্তু কোনো সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয় দৃশ্যমান হয়ে উঠলে সংবাদ পরিবেশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত—কোন সংবাদ গুরুত্ব পেল, কোনটি পেল না এবং কীভাবে উপস্থাপিত হলো—এসব নিয়েই জনমনে প্রশ্ন ও সংশয়ের জন্ম নিতে পারে।

গণমাধ্যম নৈতিকতার আন্তর্জাতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest)। বাস্তবে একজন সাংবাদিক শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করলেও, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় যদি জনসমক্ষে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাহলে সেই নিরপেক্ষতার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে শুধু নিরপেক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়; নিরপেক্ষ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণমাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা কেবল বাস্তবতার ওপর নয়, জনমনের ধারণার ওপরও নির্ভর করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা, সামাজিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক প্রভাব এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রায়ই একই পরিসরে অবস্থান করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে সাংবাদিক, সংগঠক, রাজনৈতিক কর্মী কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু এই বহুমাত্রিক পরিচয় দীর্ঘমেয়াদে সাংবাদিকতার পেশাগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যখন কোনো সাংবাদিক দৃশ্যমানভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন, তখন ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পেশাগত অবস্থানও বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। একপর্যায়ে জনগণ তাঁকে একজন সাংবাদিকের চেয়ে বেশি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বিবেচনা করতে শুরু করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তি সাংবাদিকের ভাবমূর্তি, একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতাও।

বিশ্বের গণতান্ত্রিক সমাজগুলো আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সাংবাদিকের নৈতিক স্বাধীনতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ সংবাদমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল হয়ে গেলে গণতন্ত্রের জবাবদিহিমূলক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে। গণমাধ্যম তখন আর জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং স্বার্থান্বেষী বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

সুতরাং সময়ের দাবি হলো সাংবাদিকতা ও সক্রিয় রাজনীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট নৈতিক সীমারেখা প্রতিষ্ঠা করা। যারা রাজনৈতিক নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে চান, তাঁদের জন্য রাজনীতির পথ উন্মুক্ত। আবার যারা সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে চান, তাঁদের জন্য দলীয় পদ-পদবি ও সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে দূরে থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি কোনো ক্ষমতার করিডরে নয়, কোনো দলীয় পতাকার ছায়াতেও নয়। তার প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে সত্য অনুসন্ধানের সাহসে, নৈতিক দৃঢ়তায়, পেশাগত সততায় এবং জনগণের অবিচল আস্থায়।

গণমাধ্যমের ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—বিশ্বাস অর্জন করতে লাগে দীর্ঘ সময়, ধারাবাহিক সততা এবং নিরলস পরিশ্রম; কিন্তু সেই বিশ্বাস হারাতে কখনও কখনও যথেষ্ট হয় মাত্র একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তাই সাংবাদিকতার মর্যাদা, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতন্ত্রের সুস্থ বিকাশের স্বার্থে সাংবাদিকতা ও সক্রিয় রাজনীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট, মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সীমারেখা প্রতিষ্ঠা আজ সময়ের অনিবার্য দাবি।

আরও পড়ুনঃ  তালায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত 
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST