বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দুই বছরের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ি থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. রাজিয়া সুলতানা (২৫)-এর সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে পার্শ্ববর্তী নাংলু গ্রামের মিজানুর রহমান (৩২)-এর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে জীবিকার তাগিদে মিজানুর রহমান বিদেশে অবস্থান করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে রাজিয়া সুলতানা তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বড় ছেলে আব্দুর রহমানকে (৭) ধুনট উপজেলার সোনাহাটা বাজার এলাকার একটি কেজি স্কুলে পৌঁছে দেন। এরপর ছোট ছেলে লাবিবুর রহমানকে (২) সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যান। স্কুল ছুটির পর বড় ছেলে মাকে খুঁজে না পেয়ে নানার বাড়িতে ফিরে এসে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে কোথাও রাজিয়া সুলতানা ও তার ছোট ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাজিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং একটি ইমো নম্বর থেকে তার বড় বোনের মোবাইলে পাঠানো ভয়েস বার্তায় জানানো হয়, তিনি ভালো আছেন এবং তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের শোকেস পরীক্ষা করে দেখতে পান, সেখানে রাখা নগদ ৯০ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার নেই। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
রাজিয়ার বাবা আয়নাল হক অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে কেউ মিথ্যা বিয়ের প্রলোভন বা অন্য কোনো কৌশলে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও খোয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।”
এ বিষয়ে ধুনট থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তানের অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত রাজিয়া সুলতানা ও তার শিশুসন্তানের নিরাপদ সন্ধান পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।