
এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নতুন উদ্যম ও প্রাণচাঞ্চল্যে যাত্রা শুরু করেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ, নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও গতিশীল করতে শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত একাডেমির কার্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হলো। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি একাডেমির পাশে একটি শিশুপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ পায়।”
তিনি আরও বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা সমাজকে ইতিবাচক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে সাবেক পৌর মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, “বর্তমান সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার এই আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহমুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রিপনসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্যকলা ও চিত্রকলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নাট্যকলা বিভাগও চালু করা হবে। স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ শেরপুরে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


