বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ২০ শতাংশ জমির আধা-পাকা ধানে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট এবং সেচযন্ত্র ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক ফরিদ উদ্দিন খান ফিরোজ গত ৫ মে ২০২৬ দুপুরে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সুঘাট ইউনিয়নের কল্যানী গ্রামের মৃত হারান শেখের ছেলে জহুরুল ইসলাম জহির এবং বেলগাছি গ্রামের মৃত শাহেব আলী শেখের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ফরিদ উদ্দিন খান ফিরোজ বেলগাছি এলাকায় জমি ক্রয় করে চাষাবাদ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ওই জমি নিজের দাদির সম্পত্তি দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন জহুরুল ইসলাম জহির। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও জমি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর থেকেই ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ মে দিবাগত রাতে ওই জমির ২০ শতাংশ আধা-পাকা ধানে বিষ প্রয়োগ করা হয়, ফলে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে জমিতে স্থাপিত সাবমার্সিবল পাম্প ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে এবং গভীর নলকূপের তারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি ও নষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফরিদ উদ্দিন খান ফিরোজ বলেন, “মানুষে মানুষে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু নিরীহ ফসলের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা? আমার আবাদী জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম জহির জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করলেও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি গত এক বছর ওই গ্রামে যাইনি। মানবিক কারণে আগেই জমির দাবি ছেড়ে দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. মঈনুদ্দীন জানান, ধান নষ্ট ও সেচযন্ত্র ভাঙচুরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।