খুলনা মহানগরীতে অনুমোদন ও লাইসেন্সসংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, খুলনা শহরে বিপুলসংখ্যক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হলেও সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের অবস্থা এক নয়।সম্প্রতি প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যভিত্তিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনা শহরে মোট প্রায় ২৭০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান কোনো আবেদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠান শুধু অনলাইনে আবেদন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।অন্যদিকে, একই তথ্যে খুলনা শহরের ১৫৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এর মধ্যে ১০২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ৫৫টি ক্লিনিক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরির মান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদন ও লাইসেন্সের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।প্রকাশিত তথ্যে কোনো আবেদন ছাড়াই পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খুলনা শিশু হাসপাতাল, খুলনা শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ডায়াবেটিক সমিতি খুলনা, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক-১ ও ২, জাপান মেডিকেল সেন্টার (খুলনা শাখা-১) এবং নিউ পথ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া শুধু অনলাইনে আবেদন করে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বয়রা সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বায়ো/বয়ো ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, নূরজাহান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, পাল্প ডেন্টাল সেন্টার, মাই মেডিকেল ল্যাব ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, জেনারেল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার, রহিমা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও শাবাব ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশিত হয়েছে।তবে শুধু অনলাইনে আবেদন করা বা লাইসেন্স নবায়ন না হওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অনুমোদন, লাইসেন্সের মেয়াদ ও আবেদন-প্রক্রিয়ার অবস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।এ অবস্থায় খুলনা মহানগরীর সব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরির বর্তমান লাইসেন্স, নবায়ন, অনুমোদন, জনবল, যন্ত্রপাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্ধারিত মানদণ্ড সরেজমিনে যাচাই করার দাবি উঠেছে।সংশ্লিষ্টদের দাবি, যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি, তাদের বিষয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া এবং নিয়ম না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
নাগরিকদের প্রশ্ন—রোগ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা যদি যথাযথ অনুমোদন ও মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পরিচালিত হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? তাই রোগীর নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে খুলনা মহানগরীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবগুলোতে দ্রুত ও নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।