লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় জমি নিয়ে ফেসবুক লাইভে দেওয়া এক ব্যক্তির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের সময় ফরিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে জমি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।ঘটনাটি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ওই জমি বিক্রেতা ও বর্তমানে প্রবাসে থাকা সিফন হোসেন বাঘা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।আবেগঘন কণ্ঠে দেওয়া ভিডিও বার্তায় সিফন হোসেন বাঘা বলেন, “আমি রাজ্জাক তালুকদারের কাছে এই জমি বিক্রি করেছি। বর্তমানে এই জমির মালিক রাজ্জাক তালুকদার। আমি ফরিদের কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি এবং ফরিদ আমার কাছে কোনো জমিও পাওনা নেই।তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির জমি ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। বিশেষ করে তার বিক্রি করা জমিকে কেন্দ্র করে একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে—যা তার কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।সিফন হোসেনের দাবি, তিনি আবদুর রাজ্জাক তালুকদারের কাছেই বৈধভাবে ওই জমি বিক্রি করেছেন। জমি বিক্রির পর বর্তমানে ওই জমির মালিক রাজ্জাক তালুকদার বলেও তিনি দাবি করেন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ চলাকালে ফরিদ হোসেন ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য দেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।প্রবাসে থাকা সিফন হোসেন আরও বলেন, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নিজের বিক্রি করা জমি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে ব্যথিত করেছে। তার দাবি, জমি সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা দাবি থাকলে তা দলিলপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি করা উচিত নয়।অন্যদিকে, ফেসবুক লাইভে অভিযোগকারী ফরিদ হোসেনের বক্তব্য ও জমি-সংক্রান্ত দাবির বিস্তারিত ব্যাখ্যা এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের মতে, জমি নিয়ে কোনো পক্ষের মধ্যে বিরোধ বা দাবি থাকলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য আইনগত নথিপত্রের ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন।
জমির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে তা শুধু বিরোধই বাড়ায় না, বরং নিরপরাধ ব্যক্তির সামাজিক সম্মান ও ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন মন্তব্যও করেছেন স্থানীয়রা।