PriyoKhobor-PNG
বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:০১
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

ধুনটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে উত্তেজনা, শেষ করতে পারেননি কর্মকর্তা

দৈনিক গণআওয়াজ
সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ণ
| 17
Link Copied!
‎ এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
‎বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. হাসনা হেনার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা।‎বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ধুনট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা সুলতানা বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তে যান। তদন্ত কার্যক্রম শুরুর সময় স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তবে অন্য একটি পক্ষ তদন্তের ধরন নিয়ে আপত্তি তোলে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।তদন্ত কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা সুলতানা বলেন, তদন্তের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেন। তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা না করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। ফলে ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎লিখিত অভিযোগে নানা অনিয়মের দাবি,
‎এর আগে গত ২ জুলাই বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটি প্রতিনিধিদল ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।
‎অভিযোগপত্রে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় পাঠদানসহ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে।‎লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের গাছ কেটে কাঠ দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আসবাবপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের গাছের কাঠ স্থানীয় একটি করাতকলে চেরাই করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নজরে এলে তিনি এর প্রতিবাদ জানান এবং তৈরি করা আসবাবপত্র উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যক্তিগত বাড়ির বিভিন্ন কাজ করানো, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক তৈরি করে অন্য প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা এবং সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।‎অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সন্তানের লেখাপড়ার খোঁজ নিতে বিদ্যালয়ে গেলে কোনো কোনো অভিভাবককে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনায় বিদ্যালয়কে ঘিরে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‎নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি,
‎অভিযোগকারী সোহাগ বাবু, শাহিন প্রাং ও জনাব আলী সাংবাদিকদের বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে অর্থ আদায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে অনিয়ম এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
‎তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিহিংসার বিষয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, পারস্পরিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ও গ্রামের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপরও পড়ছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
‎যা বলছে প্রশাসন
‎ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”‎ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, “অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা সুলতানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
‎অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষিকার,
‎তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. হাসনা হেনা। তিনি অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন।হাসনা হেনার দাবি, নিজ গ্রামে তাঁর বসতবাড়ি হওয়া এবং কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের পূর্ববিরোধের জেরে সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁকে মিথ্যাভাবে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত শেষ করতে না পারায় পরবর্তী সময়ে কীভাবে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে, সে বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
আরও পড়ুনঃ  নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি বগুড়ার গাড়ীদহ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST