বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কের পাশে বিকল হয়ে পড়ে থাকা একটি ট্রাক মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় কিনাম হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন শেরপুর সদর উপজেলার ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলের ছেলে মামুন হোসেন (৩৫) এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা হামজা (৩০)।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মহাসড়কের পাশে একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে কয়েকজন ব্যক্তি সেটি মেরামতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাত একটি গাড়ি বিকল ট্রাকটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডের ওপর গিয়ে উল্টে পড়ে।এতে ট্রাকটির নিচে মেরামতের কাজে থাকা তিনজন আটকা পড়েন। খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। প্রথমে একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।অন্যদিকে, উল্টে থাকা ট্রাকের নিচে আটকা পড়া অপর দুজনকে উদ্ধারে হাইওয়ে পুলিশ ও রেকার ভ্যানের সহায়তা নেওয়া হয়। ট্রাকটি সরিয়ে তাদের উদ্ধার করার পর দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অন্য একটি গাড়ির ধাক্কায় বিকল ট্রাকটি উল্টে গেলে এর নিচে তিনজন আটকা পড়েন। একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও রেকার ভ্যানের সহায়তায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।এ ঘটনায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অজ্ঞাত গাড়িটিকে শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। গাড়িটি শনাক্ত করা গেলে দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।