বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল চত্বরে এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বজনদের পক্ষের ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।এদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫০) অ্যাজমাজনিত শারীরিক জটিলতা নিয়ে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের একটি বেডে তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ভুল ইনজেকশন দেওয়ার কারণেই আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তাঁরা হাসপাতালে জড়ো হন। পরে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন।ঘটনার একপর্যায়ে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা স্বজনদের পক্ষের ছয়জনকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য ও বগুড়া সদর থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়।পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন – বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকার তানরিন (২৬), ফুলবাড়ী এলাকার রাকিবুল হাসান (১৯), প্রান্ত (২২), এম এম মিনহাজ (১৮), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার নাফিউল (২৬) এবং নামাজগড় ভান্ডারী মসজিদ এলাকার বিপ্লব হোসেন (২৬)।সংঘর্ষের পর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের পেছনের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোগীর মৃত্যুর জন্য চিকিৎসায় কোনো ধরনের ভুল বা অবহেলা দায়ী কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।