PriyoKhobor-PNG
বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:১৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্বজনপ্রীতির কালো ছায়ায় উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে

দৈনিক গণআওয়াজ
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৭:১১ অপরাহ্ণ
| 17
Link Copied!
রতন রায় :কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের সম্ভাবনাময় এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরোলেও আজও স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে পারেনি প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভিত্তিমঞ্চে। স্থায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তার শূন্যতা, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও উপাচার্যের ক্যাম্পাসবিমুখতার কারণে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু শিক্ষার প্রসার নয়, বরং দুর্নীতি ও সুশাসনের চরম বিপর্যয়ের কারণে।
অপেক্ষায় স্থায়ী নিয়োগ অথচ স্বজনরা পেলেন গুরুত্বপূর্ণ পদ:-২০২১ সালের সংসদীয় আইনে যাত্রা শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কৃষি ও ফিশারিজ দুটি অনুষদে পাঠদান চললেও কোনো স্থায়ী অধ্যাপক নেই। ইউজিসি ৪০টি পদ অনুমোদন দিলেও প্রশাসনের তৎপরতা নেই। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদাধিকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ নিজের আপনজনদের বসাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।তদন্তে জানা গেছে, উপাচার্যের বোনপো আতিকুর রহমান পিএস টু ভিসি (সেকশন অফিসার), শ্যালক আব্দুল্লাহ সোহাগ সেকশন অফিসার (সিকিউরিটি ও পরিকল্পনা), বোনের মেয়ে রেজবিন আক্তার কম্পিউটার টাইপিস্ট এবং আরেক বোনপো মোস্তফা সরকার সেকশন অফিসার (পরীক্ষা বিভাগ) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি আতিকুর রহমান ও সহকারী স্টোর কিপার রেজভীন বেগমের চাকরির বয়সসীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছিল, যা নিয়োগ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।আরও উদ্বেগজনক, ফিশারিজ অনুষদে মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই মো. আহসানুল হক ও মরিয়ম আক্তার নামে দুজনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ইউজিসির নীতিমালার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
টেন্ডার-স্বাক্ষর থেকে প্রশাসন সবই ভাগ্নেদের হাতে:-বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আর্থিক ও উন্নয়নমূলক টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন উপাচার্যের শ্যালক আব্দুল্লাহ সোহাগ ও ভাগ্নে আতিকুর রহমান। টেন্ডারের দাপ্তরিক কাগজপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের পরিবর্তে আব্দুল্লাহ সোহাগের সই পাওয়া গেছে, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চরম পতনের প্রমাণ।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভালো শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের কোনো আগ্রহই উপাচার্যের নেই। বরং স্থায়ী ও খণ্ডকালীন পদে নিয়োগের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট হারে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে যা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ন করেছে।
ঢাকার গেস্ট হাউসেই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাম্পাসে উপাচার্যের পদচারণা নেই:-আইন অনুযায়ী উপাচার্যের ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক হলেও অভিযোগ, অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। তিনি ঢাকার একটি গেস্ট হাউসকেই কার্যালয় বানিয়ে সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিতর্ক ছিল :-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। কুড়িগ্রামে যোগ দেওয়ার আগে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগে থাকাকালীন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে প্রায় ১ বছর ১১ মাস ১৫ দিন অননুমোদিত অনুপস্থিত ছিলেন, যার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, সেই অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করেই তাঁর পদোন্নতি ঘটে। এছাড়া তিনি নিজের স্ত্রী হোসনে আরা হীরাকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্বজনরা যা বলছেন-উপাচার্য যা বলছেন:-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্যের ভাগ্নে আতিকুর রহমান দাবি করেন, “আমি স্যারের কোনো আত্মীয় নই, বাড়ি কিছু দূরে হওয়ায় অনেকে ভুল বোঝেন। ভিসি স্যার প্রশাসনিক সুবিধার জন্য কাছের মানুষদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।”এদিকে অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম নিজেও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমার কোনো নিকটাত্মীয়কে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যারা কাজ করছেন তারা যোগ্য এবং সাময়িক নিয়োজিত। খুব শিগগিরই পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা হবে।” ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ইউজিসি ও সরকারি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় থাকতে হয়, তবে ছুটির দিনেও আমি ক্যাম্পাসে রাত পর্যন্ত কাজ করি।”
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কড়া বার্তা ‘তদন্ত হোক, আইন হোক’ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে কুড়িগ্রাম জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,”একটি সম্ভাবনাময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শুরুতেই স্বজনপ্রীতি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের এত গুরুতর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার আলো ছড়ানোর বদলে যদি প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তবে তা কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার ওপর সুস্পষ্ট আঘাত। স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে পছন্দসই মানুষদের চুক্তিভিত্তিক বসানো ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কুড়িগ্রামের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবিলম্বে সরজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ  ৮৮ *বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ফেরত নিয়ে যাওয়া 
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST