বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৫ লিটার চোলাইমদ ও চোলাইমদ তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৩০০ লিটার ওয়াশসহ জামাই-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চোলাইমদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণও জব্দ করা হয়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ইশবপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুতুল পাহান (৫২) এর নিজ দখলীয় বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের জারিকেন থেকে ১৫ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বাড়ির পশ্চিম পাশের আঙিনার মাটির নিচে পুঁতে রাখা তিনটি বড় প্লাস্টিকের বালতি থেকে চোলাইমদ তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৩০০ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় মাইকেল রতন চন্দ্র বর্মণ (৪২)-এর ডান হাতে ধরা অবস্থায়ও চোলাইমদ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে উদ্ধার করা মাদক ও ওয়াশ জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ইশবপুর গ্রামের মৃত মহন পাহান ও মৃত বিচারী পাহানের ছেলে পুতুল পাহান (৫২) এবং নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার ঢেকড়া গ্রামের মাইকেল হরেন চন্দ্র বর্মণ ও গীতারানী চন্দ্র বর্মণের ছেলে মাইকেল রতন চন্দ্র বর্মণ (৪২)। মাইকেল রতন চন্দ্র বর্মণ বর্তমানে আদমদীঘির ইশবপুর এলাকায় বসবাস করেন।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক শামীমা আকতার বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করেছেন।কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চোলাইমদ তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের উৎস এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।