গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুর এবং চালকের কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় শ্রীপুর থানার ইন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা মোছা. মোর্শেদা আক্তার (৩১) জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ভবানীপুর এলাকার মো. খালেক ভূইয়া (৫২) ও মো. আল-আমিন (৪৫)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে মোর্শেদা আক্তার জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তার মালিকানাধীন তিনটি অটোরিকশা ভাড়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে জয়দেবপুর এলাকায় অটোরিকশা চলাচলকে কেন্দ্র করে খালেক ভূইয়া তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভবানীপুর বাসস্ট্যান্ডে মোর্শেদা আক্তারের একটি অটোরিকশা অবস্থান করছিল। এ সময় খালেক ভূইয়া ও আল-আমিন অটোরিকশাচালক মো. সিয়ামের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা লোহার গজ দিয়ে অটোরিকশাটি ভাঙচুর করেন এবং চালকের কাছে থাকা নগদ ৫১০ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরে চালক বিষয়টি অটোরিকশার মালিককে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময় অভিযুক্তরা অটোরিকশার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে আর কোনো যোগাযোগ করেননি।অভিযোগে ভাঙচুরের ঘটনায় অটোরিকশাটির আনুমানিক ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মোর্শেদা আক্তার।এদিকে, ভবানীপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় ‘বিট বাণিজ্য’ এবং বাজার এলাকায় মাদক সেবন, লোকজনকে মারধর ও অশালীন আচরণের অভিযোগও রয়েছে খালেক ভূইয়ার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ বক্তব্য দিতে সাহস পান না বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগকারী মোর্শেদা আক্তার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও অটোরিকশার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”