খুলনা নগরীর নিরালা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সংবাদকর্মী ও তার সহকর্মীর ওপর হামলা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে আবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগকারী গণমাধ্যমকর্মী শেখ তৈয়ব আলী পর্বত জানান, তিনি নিয়মিতভাবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনা, অনিয়ম, অপরাধ ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে খুলনা নগরীর নিরালা তালুকদার কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে ডাক্তার বাড়ি গলিতে নারীসংক্রান্ত একটি অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন মুকুল নামের এক ব্যক্তি ও এক নারীকে আটক করেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য ফোন করেন।খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রায় ৪ থেকে ৬ মিনিট পর আবু নামের এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন।শেখ তৈয়ব আলী পর্বতের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে এসে আবু নামের ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি মরহুম লিটু সাহেবের চাচাতো ভাই এবং আটক মুকুল তার ভাই। এরপর তিনি উপস্থিত এলাকাবাসীর কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চান। এলাকাবাসী ঘটনার বিবরণ দেওয়ার পর বিষয়টিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আবু অভিযুক্ত মুকুলকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগকারী আরও জানান, আবু নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তিনি ও তার এক সহকর্মী আবু এবং মুকুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে আবু নামের ওই ব্যক্তির বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে ঘটনার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যান শেখ তৈয়ব আলী পর্বত ও তার এক সহকর্মী।অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৮টা ২৯ মিনিটে আবুর বাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।শেখ তৈয়ব আলী পর্বতের অভিযোগ, এ সময় তাকে ও তার সহকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।এ ছাড়া হামলার সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিক আঘাত করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলা, লাঞ্ছনা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, সাংবাদিকের সরঞ্জাম ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী ও তার সহকর্মী।তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত আবু ও মুকুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।