PriyoKhobor-PNG
শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:০৪
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

“বিতর্কে ভরা মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ”: যা বলছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা!

দৈনিক গণআওয়াজ
জুলাই ৮, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
| 23
Link Copied!

আকাশ দাশ সৈকত

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে এক মহানাটকীয় জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনার এই প্রত্যাবর্তনের চেয়েও ম্যাচটিতে রেফারিং এবং ভিএআর (VAR)-এর কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ফিফা এবং রেফারিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ম্যাচে মিশরের একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে। মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকোর দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিল মিশর, ঠিক তখনই ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন উত্তাল ফুটবল অঙ্গন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই বিষয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক তারকারা কে কী বলছেন:

জনপ্রিয় ফুটবল বিশ্লেষক চ্যাডউইকের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’। তিনি বলেন, মাঠের রেফারি যেখানে সরাসরি কোনো ফাউল দেখেননি, সেখানে মিশর গোল করার পর কেন ভিএআর অনেক পেছনে গিয়ে ঘটনাটির পুনঃনিরীক্ষা (রিভিউ) করল, তা বোধগম্য নয়।

মিশরের বাতিল হওয়া গোলটির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক লিভারপুল কিংবদন্তি ক্যারাঘার বলেন”আমি নিশ্চিত, এই গোলটি অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হলে কখনোই বাতিল করা হতো না। প্রিমিয়ার লিগ বা লা লিগায় এটি নিশ্চিত গোল ছিল।”

সবচেয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনিয়ো। এই ম্যাচটিকে ‘দিনেদুপুরে ডাকাতি’ বলে অভিহিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন “গোল হওয়ার পর সেটি বাতিল করা লজ্জাজনক। ফাউল যদি হয়েই থাকে, তবে খেলা তখনই থামানো উচিত ছিল, গোল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা নয়।”

আলী আল গার্নির মতে, ‘ডাকাতি’ শব্দটা হয়তো একটু বেশি কঠোর শোনায়, তবে ম্যাচের ‘ফিফটি-ফিফটি’ (সংশয়পূর্ণ) সিদ্ধান্তগুলো সব আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে। তিনি একটি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন” আর্জেন্টিনা যদি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকত, তবে কি ভিএআর এভাবে অতীত ঘেঁটে মিশরের গোল বাতিল করত? উত্তর হচ্ছে—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা ।

রেফারির সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন এই ফুটবল পণ্ডিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ম্যাচের সিদ্ধান্তগুলোতে কোনো সামঞ্জস্য ছিল না। মিশরের গোল বাতিলের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, “হয় দুটো ঘটনাই ফাউল ছিল, না হলে কোনোটিই ফাউল ছিল না। কিন্তু তারা তো বলেছিল রি-রেফারি (পুরনো ঘটনা ধরে আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া) করবে না।”

ফক্স স্পোর্টসের নিয়ম বিশ্লেষক মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ স্পষ্ট ভাষায় ভিএআর হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন,প্রথমত, ওটা কোনো স্পষ্ট ফাউল ছিল না। মাঠের রেফারি যেখানে কোনো বাঁশি দেননি, সেখানে এত সূক্ষ্ম একটা বিষয় নিয়ে ভিএআর-এর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা ঠিক হয়নি।ফাউল এবং গোলের মাঝে সময়ের ব্যবধান অনেক বেশি ছিল। প্রায় ১০ সেকেন্ডের মতো সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুরো মাঠ পেরিয়ে গোলটি হয়েছিল। আর্জেন্টিনা দল সেখানে নিজেদের সামলে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিল।

রাজনৈতিক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক ক্যাসপারভও ফিফা এবং রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘তারকাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি লেখেন “অনেক দূরে একটা ফাউল হওয়ার অজুহাতে মিশরের অনবদ্য গোলটি বাতিল করা হলো, অথচ ঠিক কয়েক মিনিট পর একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল হলো না! কোনো ভিএআর দেখা হলো না, কিছুই না? ফিফাকে আবার একটি দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশার মতো মনে হচ্ছে, যারা কেবল তারকাদের পক্ষে খেলতেই ভালোবাসে।”

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি ফিফা ও রেফারিদের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানো এবং পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন”এটি স্পষ্টতই একটি সাজানো বা পাতানো ম্যাচ (Rigged match) ছিল এবং পুরো বিশ্ব তা দেখেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিফা ও রেফারিরা সম্ভবত চেয়েছিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুক এবং লিওনেল মেসি যেন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে না যান। ডি-বক্সের ভেতর আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার কর্তৃক মিশরের হামদি ফাথিকে জার্সি টেনে ধরার পরও কেন পেনাল্টি চেক করা হলো না, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে ম্যাচ নিয়ে সবচেয়ে বড় বিস্কোরক মন্তব্য করেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো । রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। জিকো বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন”রেফারি নিরপেক্ষ ছিলেন না, ন্যায্যও ছিলেন না। তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন এবং পুরো একটা দেশের পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন। শুরুর মিনিট থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি করেছেন। আল্লাহ সাক্ষী থাকুক। এই টুর্নামেন্ট পাতানো।”

আরও পড়ুনঃ  মিলন বাজারে ফুটবল টূর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত।
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST