বগুড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজাসহ মো. রফিক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নিশান ব্র্যান্ডের প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী বিমান মোড় এলাকায়অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ মাদক বগুড়ার দিকে আসছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএমের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলীর তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিডালী বিমান মোড়সংলগ্ন মাহাথীর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। কিছুক্ষণ পর ঢাকা মেট্রো-গ-১৯-৩৮৪৮ নম্বরের একটি সাদা নিশান প্রাইভেটকার সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে থামার সংকেত দেয়। গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে।আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ট্রাংক থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা তিনটি বড় পোটলা উদ্ধার করা হয়। লাল প্লাস্টিক ও খাকি রঙের কসটেপ দিয়ে মোড়ানো এসব পোটলা খুলে প্রতিটিতে পাঁচ কেজি করে মোট ১৫ কেজি শুকনা গাঁজা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা মাদকের ওজন ডিজিটাল মেশিনে নিশ্চিত করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রফিক জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অরক্ষিত পথ ব্যবহার করে গাঁজা সংগ্রহ করতেন। পরে প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক এনে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য যাচাই করে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(খ) ধারায় রফিকের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে।পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।