ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর জামাল ইউনিয়ন বিসিআইসি সার ডিলার ‘মেসার্স এম শহীদুল ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও কৃষকদের জিম্মি করে সারের কালোবাজারির তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দকৃত সব ধরনের সার গুদামে আসার কথা থাকলেও সাধারণ কৃষকদের কপালে জুটছে কেবল ইউরিয়া। বাকি টিএসপি, ডিএপি বা পটাশ সার কোথায় গায়েব হচ্ছে—তা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় চাষীদের মাঝে।আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে জামাল ইউনিয়ন বিসিআইসি সার ডিলার পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ডিলার ঘর থেকে শুধুমাত্র ইউরিয়া সার বিতরণ করা হচ্ছে। গুদাম ও তার আশেপাশে অন্য কোনো সারের ন্যূনতম আলামতও পাওয়া যায়নি।
দুধরাজপুরসহ আশপাশের গ্রাম থেকে আসা ভুক্তভোগী কৃষক মধু মিয়া, নুর ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম, সোহাগ হোসেন, কালাম হোসেন ও রবিউল মন্ডলসহ অসংখ্য চাষী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কেউ ৭ বিঘা, কেউ ১০ বিঘা আবার কেউ ১৫ বিঘা জমিতে আবাদ করছি। কিন্তু ডিলার পয়েন্টে আসলে ইউরিয়া ছাড়া আর কোনো সার পাওয়া যায় না। শুধু ইউরিয়া দিয়ে তো আর জমির আবাদ ও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব নয়। সরকারি বরাদ্দের অন্যান্য সার ডিলার শহীদুল ইসলাম কোথায় সরাচ্ছেন? গোপনে বেশি দামে কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে তিনি পকেট ভারী করছেন কি না—আমরা এর জবাব চাই।”কৃষকদের আরও অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে সার না পাওয়া গেলেও বাইরের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের দোকানে ঠিকই অহরহ সার পাওয়া যাচ্ছে, তবে তা কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত চড়া দামে। এই সারগুলো খুচরা বাজারে কারা সরবরাহ করছে, তা দ্রুত তদন্ত ও তদারকি করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।এ বিষয়ে ডিলার ঘরের ম্যানেজার শাহাবুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেদের দায় এড়িয়ে বলেন, “আমাদের ইউরিয়া ছাড়া অন্য কোনো সার দেওয়া হচ্ছে না। সরবরাহ না পেলে আমরা কৃষকদের সার দেব কীভাবে?”তবে ম্যানেজারের এই বক্তব্যকে নিছক টালবাহানা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। সার নিয়ে ডিলার মেসার্স এম শহীদুল ইসলামের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও সারের রহস্যজনক গায়েব হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বর্তমানে সারের তীব্র সংকটে আমন ধানসহ অন্যান্য ফসলি জমি নিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ২ নং জামাল ইউনিয়নের সাধারণ চাষীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবিলম্বে এই সার কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক তদন্ত, বিসিআইসি ডিলার মেসার্স এম শহীদুল ইসলামের লাইসেন্স বাতিল এবং সারের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা।