বগুড়ার ধুনটে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ শ্রীমতি বেনী রায় (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় ধুনট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার নারীকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।গ্রেপ্তার বেনী রায় ধুনট উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুঠিবাড়ী গ্রামের শ্রী শম্বু রায়ের স্ত্রী।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধুনট থানার জিডি নং-৩৭৪-এর সূত্র ধরে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল কুঠিবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়।পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে অভিযানকারী দল বেনী রায়ের টিনশেড বসতবাড়ির সামনে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্য ও নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়।আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেনী রায় তাঁর হেফাজতে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের। পরে তাঁর দেখানো মতে বসতঘরের একটি শয়নকক্ষের খাটের তোষকের নিচে রাখা সাদা পলিথিনের একটি প্যাকেট থেকে গাঁজা বের করে দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা গাঁজা ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে পরিমাপ করে ১০০ গ্রাম পাওয়া যায়। রাত আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ওই গাঁজা জব্দ করে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য উদ্ধার করা আলামত থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা পৃথক করে সিলগালা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯০ গ্রাম গাঁজা সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বেনী রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অন্য স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এর আগেও কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ধুনট থানায় ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা নং-০৬, জিআর নং-১৬৪/২৬ হিসেবে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় করা হয়েছে।পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপন করে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন এবং পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বেনী রায়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। রোববার সকালে তাঁকে থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, ধুনট উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।