লক্ষীপুর জেলার চর মনসা ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছর ধরে বসবাস করে আসা একটি বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার গিয়াস উদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মফিজ উল্যাহ অভিযোগ করে জানান, তিনি ১৯৭৯ সালে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট মৌজার রিভিশন জরিপ (আরএস) ২১৯৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৯২৭২ নম্বর দাগে অবস্থিত বসতভিটাটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলে রয়েছে।
মফিজ উল্যাহর দাবি, তিনি দলিলমূলে জমি ক্রয় করার পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার গিয়াস উদ্দিন, মমিন উল্যাহ, আবুল কাশেম ও রেজিয়া বেগমসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমির ওপর দাবি উত্থাপন করেন। পরে তারা নিজেদের পছন্দমতো আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করে সেখানে ইট, বালুসহ নির্মাণসামগ্রী এনে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে বিদ্যমান অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা এখনও জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি-ধমকি এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এমনকি বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় মফিজ উল্যাহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমরা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে এই বাড়িতে বসবাস করছি। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মহল আমাদের উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধটি দীর্ঘদিনের এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসী মনে করেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে উভয় পক্ষের উচিত শান্তিপূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের নজরদারি বাড়িয়ে সম্ভাব্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং সকলেই আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।