পাইকগাছায় প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নালিশী জমিতে নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নোটিশ পাওয়ার পর প্রতিপক্ষ স্কুল শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ সরকার গংরা ১০ মে রোববার সকাল থেকে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নিরাপদ সরকারের পরিবার। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে উপজেলার পূর্ব গজালিয়া গ্রামের মৃত শিবরাম সরকারের ছেলে নিরাপদ সরকারের সাথে বসতবাড়ির জায়গা জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ পূর্ব গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ সরকার গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। গজালিয়া মৌজার বিআরএস ১২২৫ ও ১২২৬ খতিয়ানের ২৩৫৬, ২৩৯৫,২৪০৩ ও ২৪০৪ নং দাগের ৮৯ শতক জমির ভাগবাটোয়ারা ও মাপজোপ নিয়ে নিরাপদ ও রমেন্দ্র গংদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। মৃত পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উপর ৪ ছেলে নিরাপদ, পরিমলের পুত্র কুমারেশ, প্রসাদ ও রমেন্দ্র পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। ভুক্তভোগী নিরাপদ সরকারের অভিযোগ সম্পূর্ণ জমি ভাগবাটোয়ারা ও মাপজোপ না করে প্রতিপক্ষ রমেন্দ্র নাথ সরকার জোর পূর্বক বিল্ডিং নির্মাণ করার চেষ্টা করে আসছে। এনিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা এবং অভিযোগ করা হলে আপোষনামার সিদ্ধান্ত না মেনে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলে সর্বশেষ ছেলে অমরেন্দ্র নাথ সরকার বাদি হয়ে প্রতিপক্ষ রমেন্দ্র নাথ সরকার গংদের বিরুদ্ধে নালিশী জমিতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ২৯ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৮/২৬ নং এমআর মামলা করে। মামলায় বিজ্ঞ বিচারক নালিশী জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে থানার ওসি কে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে থানা পুলিশ ইতোমধ্যে উভয় পক্ষ কে নোটিশ প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার এসআই মনিরুজ্জামান।
এদিকে মামলার বাদির বাবা নিরাপদ সরকার অভিযোগ করেন পুলিশের নোটিশ পাওয়ার পরেও বিবাদী ভাই রমেন্দ্র জোর করে রবিবার সকালে নালিশী জমিতে পাঁকা বাড়ী নির্মান কাজের মধ্যে মাটি ভরাট করছেন। বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ অভিযোগ সম্পর্কে রমেন্দ্র নাথ সরকার আদালতের আদেশের নোটিশ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন আমরা ক’ভাই হিস্যা মতে যার-যার জায়গায় বসবাস করছি। তিনি বলেন অনেক আগে থেকে আমার ভাগে পাঁকা বাড়ি নির্মানের কাজ শুরু করেছি। অন্য ভাইদের উঠানে মজুদ রাখা মাটি সরিয়ে নিতে বলায় মাটি গুলো সেখান থেকে সরিয়ে নিজের জায়গায় রাখছিলাম বলে তিনি জানান। হয়রানি মূলক মামলা করায় নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে ও তিনি জানান।
এ বিষয়ে থানা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান বলেন ,আদালতের আদেশ অমান্য করে কোন পক্ষই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।