গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে অবৈধ সার উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কামারজানি বন্দরের কুখ্যাত কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা কৃষি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের লাঞ্ছিত করে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার অবৈধভাবে মজুদ রয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে জেলা কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো: আসাদুজ্জামান এবং উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে কৃষি বিভাগের একটি দল সেখানে তল্লাশি চালায়। অভিযানে সানোয়ার মুন্সির গুদাম থেকে প্রায় ৪০০ বস্তা অবৈধ ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়।সার উদ্ধারের পর ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় সানোয়ার মুন্সির ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিতে কৃষি কর্মকর্তা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ও উপজেলা কৃষি অফিসারকে লাঞ্ছিত করে। একই সাথে দায়িত্ব পালনকালে সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার বিপ্লব ইসলাম, সময় টিভির ক্যামেরা পার্সন সোহেল রানা, সারাবাংলা নিউজ পেজ ও দৈনিক আমাদের কথা এবং সাপ্তাহিক গণমানুষের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মুনির হাসানসহ স্থানীয় ৫ জন সাংবাদিককে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর হামলাকারীরা তাদের একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো।