লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নিলাম ছাড়াই সরকারি ১৪ টি গাছ গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার এলাকায়। অভিযুক্ত আলী হোসেন সিরাজী হাজিরহাট ইউনিয়নের সাবেক ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) ও বর্তমানে রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার এলাকায় ভূমি কর্মকর্তা তহসিলদার আলী হোসেন সিরাজীর বাড়ীর সামনের ১৪ টি সরকারি গাছ বিক্রি করে কাটা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গাছ বিক্রি করতে হলে আগে চিহ্নিত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে উন্মুক্ত নিলাম বা টেন্ডারের জন্য দরপত্রের আহবান করতে হয়। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা গাছ পাবেন। কিন্তু তা না করে উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী কামরুলকে ম্যানেজ করে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজী গাছগুলো স্থানীয় হারুন ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করে দেন। আজ শনিবার (৯ মে) সকাল থেকে গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন হারুন ব্যাপারী। এর আগে ওই সড়কের গাছগুলোতে সরকার টেন্ডারের জন্য নাম্বারিং করা হয়। চলতি মাসের ১৮ তারিখে টেন্ডার আহবানের কথা রয়েছে। কিন্তু সরকারের নম্বর দেওয়া ১৪ টি গাছ বিক্রি করেন তহসিলদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ওই গাছগুলো হারুন ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনাটি বন কর্মকর্তার অফিসের কর্মচারী কামরুলকে ম্যানেজ করেই কাটা হচ্ছে।
হারুন ব্যাপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তহসিলদার সিরাজীর কাছ থেকে গাছ ক্রয় করেছি। তাই কেটে নিচ্ছি।
অভিযুক্ত ভুমি কর্মকর্তা আলী হোসেন সিরাজী বলেন, মোবাইলে বেশী কথা বলা যাবেনা। তবে গাছগুলো আমার জায়গায় থাকায় বিক্রি করেছি। আপনার সাথে আমি পরে যোগাযোগ করবো।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাদেরকে নিষেধ করার পরেও গাছগুলো কেটে নেওয়া দুঃখজনক। আমি এখন আবার ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। নম্বর দেওয়া গাছ এভাবে বিক্রি করলে আমি ঠিকাদারকে কী জবাব দিবো?।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাহাত উজ জামান বলেন, কোনো অবস্থাতেই নিলাম ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রি করা যাবে না। এখনি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।