PriyoKhobor-PNG
সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:১৯
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

সাধ্যের বাইরে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম, দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

এস আর নিরব
মে ৯, ২০২৬ ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
| 78
Link Copied!

উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়া, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। পাড়ামহল্লার দোকানগুলোতে কমেছে বিক্রির পরিমাণ।

মানুষের আয় না বাড়লেও বেড়েছে ব্যয়। আয়ব্যয়ে ভারসাম্য করতেই হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য এবং নিম্নমধ্যবিত্তরা। খরচ কমাতে কেনাকাটার পরিমাণেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর খিলক্ষেতে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক মো. আতিক ইসলাম মুদি দোকান থেকে গতকাল ১ লিটার সয়াবিন তেল কেনেন ২০০ টাকায়। তিনি দুই দিন আগেও বাজার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ২২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খরচ কমাতে সাপ্তাহিক বাজার না করে দুই দিন পরপর বাজারে আসতে হয়। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই কিনি এখন।

ছোট মেয়ে ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছে। ইলিশ কিনলে অনেক কিছুই বাজারের লিস্ট থেকে বাদ দিতে হবে। সাধ আছে অথচ সাধ্য নেই।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর, রামপুরা, উত্তরা বিডিআর মার্কেট, শান্তিনগর ছাড়াও কয়েকটি বড় বাজার এবং পাড়ামহল্লার মুদি দোকানগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা তুলনামূলক কম।

কারওয়ান বাজারে সয়াবিন তেলের ডিলার বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লেও এখনো নতুন তেল বাজারে আসেনি। ১ লিটার তেলের বোতল ১৯০-১৯৫ টাকা, ২ লিটার ৩৮০-৩৮৫ টাকা, ৫ লিটার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতা নেই তেমন। প্রান্তিক পর্যায়ে বিক্রি না হলে পাইকারি বাজারে বিক্রির পরিমাণ কমে যায়।’

আরেক ব্যবসায়ী মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘হাফ লিটার, ১ লিটার তেলের বোতল বিক্রি বেড়েছে। তবে ৫ লিটারের বোতল নিচ্ছেন তারা যারা মাসিক বাজার করেন। ১ লিটার পাম তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় বেড়েছে পাম তেল বিক্রি।’

উত্তরায় চোখে পড়ে টিসিবির ট্রাকে ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। টিসিবির পণ্য বিক্রেতা নাঈম ইসলাম দৈনিক গণআজকে জানান, সরকারি পণ্যের দাম কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বেশি হচ্ছে।

টিসিবির পণ্য কিনতে আসা সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘অল্প আয়ে ভেবেচিন্তেই খরচ করতে হয়। খুচরা দোকান থেকে পণ্য কিনলে খরচ বেশি হয়। তাই এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প টাকায় পণ্য কিনি। বাকি টাকা অন্য কাজে খরচ করি।’

এদিকে ক্রয়ক্ষমতা কমায় মুদি দোকান বা সুপার শপের ক্রেতারা খাদ্যশ্রেণির ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ছোট বা মিনি প্যাকের দিকে ঝুঁকেছেন। সেই সঙ্গে সুপার শপগুলো বড় প্যাকের পণ্য বিক্রি করতে নানান অফার দিচ্ছে।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গেল এপ্রিলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর বাজারে এ প্রতিবেদকের কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুমাইয়া আক্তার নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চাকরি শুরু করার পর থেকে বেতন দিয়েই খরচ চালাতে হয়। বাসাভাড়া, যাতায়াতভাড়া, অন্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে। তাই বড় প্যাকেট না কিনে ছোট প্যাকেট কিনতে হয়। বড় প্যাকেট কিনলে অনেক দিন চলে; কিন্তু একসঙ্গে বেশি টাকা খরচ করলে অন্যদিকে খরচ করতে পারি না।’

বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া সীমিত আয়ের মানুষের জন্য খুবই চিন্তার বিষয়। কোনো কিছুর দাম বাড়লে সবার আগে এই সীমিত আয়ের মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিগুলো চালু রাখলে সীমিত আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পেতে পারে। যেসব পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষ ব্যবহার করে সেসব পণ্যের দাম নজরদারিতে রাখলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। সরকারের উচিত এসব দিকে একটু নজর রাখা।’

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। মুরগির দাম সামান্য কমলেও ডিম আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও বাড়তি। অনেক বিক্রেতার দাবি, পণ্য পরিবহনের খরচ বেশি ও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সামান্য কমেছে। তবে কিছু কিছু বিক্রেতা সবজিসংকটের কথা অস্বীকার করেছেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা আর ঝিঙ্গা, করলা, বরবটি ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজির দাম ১০-২০ টাকা কম ছিল। তবে কাঁকরোলের দাম সামান্য কমেছে, বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ সবজির দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। এ ছাড়া আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ এবং কাঁচামরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। টম্যাটো ৫০-৬০, পেঁপে ৭০-৮০ ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে পেঁপের দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ ও সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ ও খাসির মাংস ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের চাহিদা বেশি। কিন্তু জোগান কম।

সাম্প্রতিক তীব্র দাবদাহে অনেক মুরগি মারা গেছে। তাই ডিমের জোগান কমেছে। রুই ও কাতলা প্রতি কেজি ৩২০-৩৮০, পাঙাশ ১৮০-২০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রতি কেজি ৬৫০-৭৫০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩০০-৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ এবং মোটা মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মুগ ডাল ১৪০, ছোট মুগ ডাল ১৭০, খেসারি ডাল ১০০, বুটের ডাল ১১৫ এবং মাষকালাই ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৫-৮৮ ও রশিদ মিনিকেট ৭৫-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট মোজাম্মেল বিক্রি হচ্ছে ৯ এর০ টাকায়।

আরও পড়ুনঃ  কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রাজধানীর পার্কগুলাতে বসেছে মাদকের হাট
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST