
আখাউড়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, আনিত অভিযোগ, মিথ্যা, সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী মোঃ ইকবালের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ সহ নানা অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক সহ এমপিওভু্ক্ত ১৮জন শিক্ষক-কর্মচারী ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি ১১ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল খণ্ডকালীন (গেস্ট টিচার) শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপিং করেন। তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদানের রুটিন প্রণয়ন না করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্লাস কমিয়ে গেস্ট টিচার দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করাচ্ছেন। এসব বিষয়ে এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা কথা বললে সহঃ প্রধান শিক্ষক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। বিশেষ করে দূর দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষকদেরকে মারধর করার হুমকি দেন বলেও দরখাস্তে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ বিষয়ের ক্লাস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করার হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী প্রধান শিক্ষকের জন্য একটি আলাদা কক্ষ থাকা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ শিক্ষক মিলনায়তনে বসে থাকেন এবং প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে সমালোচনা করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল এর জবাবে বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অবাঞ্চিত বানোয়াট এবং মিথ্যা। প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক যেদিকে মেঘ ওইদিকেই ওনি ছাতা ধরেন।
দরখাস্তে আরও অভিযোগ করা হয়, সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা অমান্য করে ইচ্ছামতো কার্যক্রম করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবালের উত্তর, সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যে
এ ব্যপারে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল বলেন, আমি রুটিন করে দিলেও প্রধান শিক্ষক তা কাটাকাটি করে বাদ দেন। এজন্য রুটিন করা যায়নি। শিক্ষকরা আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করেছে তা বুঝতে পারছি না। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে আনিত এই অভিযোগ গভীর ষড়যন্ত্রমূলক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক নিজের মনগড়া মত আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ লেখে, অন্য শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে, বিভিন্ন অজুহাত ও ভয়ভিত্তি দেখিয়ে,তাদের স্বাক্ষর নিয়ে, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আমাকে সহযোগিতা করেন না। প্রভাব দেখান। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে দরখাস্ত করেছি।
প্রভাবের জবাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব চলেনা, প্রভাব দেখার জায়গা নয়, উল্টো প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক ও ওনার স্ত্রী শিখা ম্যাডাম সহ প্রভাব দেখায়, এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীত ও বর্তমানে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, ওনার বিরুদ্ধে। যাহা তদন্তে সত্যতা মিলবে।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপসী রাবেয়া বলেন, শিক্ষকরা আমাকে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। নিয়মিত কমিটি হলে এসব সমস্যা সমাধানের সুপারিশ করবো বলেছি। শিক্ষকদের দরখাস্তটি আমি দেখিনি। হয়তো অফিসে দিয়েছে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক সহ মোট ১৮ জন আমার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ করেছে, তাহা ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলক। সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল আরো বলেন, ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের স্বাক্ষর নিয়েছেন ভয় দেকিয়ে।


