
মোঃ আরিফুজ্জামান তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী:
চলতি বর্ষা মৌসুমে পটুয়াখালী জেলার, মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিপড়াখালী এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে,দিশেহারা হয়ে পরেছেন নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষ। ইতিমধ্যে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। চোখের সামনে কৃষকের একমাত্র সম্বল আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর তা চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে অসহায় কৃষককে। নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের এমন দৃশ্য এখন নৈমিত্তিক ঘটনা। গত কয়েক বছর ধরে মির্জাগঞ্জে সর্বনাশা পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদী পারের শত শত ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গুজার ঠাই হারিয়ে এসব লোকজন অনত্র বসবাস করছেন। নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও ভাঙ্গন রোধে কোন উদ্যোগ নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পিপড়াখালী গ্রামের পায়রা নদীর ভাঙনে শত শত বাড়িঘর, হাট-বাজার, আবাদি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কবর, মন্দিরসহ বিস্তীর্ণ জনপদ ইতিমধ্যে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধের অনেক জায়গায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জমি হারা লোকজন চরম হতাশায় অনত্র জীবন যাপন করছেন। নদীপারের বাকি পরিবারগুলো এখন আতংকে দিন পার করছেন। সরকারি কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে হতাশ ভাঙন কবলিত ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিকট জোর দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। পিপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা রেনু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিন-তিনবার ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটা, বাড়ি, ফসলিজমি সবই পায়রায় গেছে। আশ্রয় নেওয়ার মতো নিজেদের কোনো জমি নেই। ভাঙন এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে অন্য একজনের জমিতে কোনো রকম টিন-বাঁশ-পলিথিনের ছাপরা দিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। বর্তমানে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে মনে হয় কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আশ্রয়হীন হয়ে যাবেন। এইবার ভাঙলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে কই যাবেন তা আকলিমা নিজেও জানেন না। পিপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ উজ্জ্বল মাস্টার বলেন, ইতিমধ্যে এ অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সুন্দর কালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ীসহ হাট-বাজার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরেও তা এখনো রয়েছে নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে। এবছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যেভাবে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে খুব দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে আবারো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,আপনারা দেখেন আমার বাড়ির অবস্থা এইখনে নদীর স্রোতের চাপে খুব তাই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি জোর দাবি করেন।
পিপড়াখালীএলাকার বাসিন্দা,সাবেক ইউপি সদস্য হবিবুর রহমান খাঁন জানান, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, গ্রামে আগে ১০/১২ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। একসময় এই গ্রামে স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার সবই ছিল। নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এখন হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার এই গ্রামে রয়েছে। যেভাবে ভাঙন চলছে, তাতে অচিরেই গ্রামগুলো পায়রায় বিলীন হয়ে যাবে।
২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল বাশার (নাসির) বলেন, এমন তীব্র গতির ভাঙনের ফলে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র। এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ইউনিয়নের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র বেড়িবাঁধ দেয়। আবার বন্যায় তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। টেকসই বেড়িবাঁধ তৈরির জন্য সরকারের কাছে বারবার দাবি করেও কোনো ফল হয়নি। আশা করি খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন।
পটুয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, যে সকল যায়গায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানপনা আছে অথবা বেড়িবাধ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে , আমরা বর্তমানে ভাঙ্গোন রোধে অস্থায়ী ভাবে কাজ করছি, তবে খুব শীগ্রই ভাঙ্গোন রোধে স্থায়ী ভাবে সমাধানের কথা জানান,পটুয়াখালীতে মোট ১হাজার তিনশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ কিমি. বাকি ৬ কি. মিটার বেড়িবাঁধ পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে।


