রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সমাজসেবা কমপ্লেক্সের জায়গায় বাঁশের আড়ত স্থাপন করে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সরকারি একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জায়গা কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাজসেবা কমপ্লেক্সটি সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর জায়গার একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের আড়ত হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পরিবেশ ও সেবাগ্রহীতাদের চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে?সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ওই ব্যক্তি প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে বাঁশের ব্যবসা করে আসছেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন, ইজারা বা বৈধ বরাদ্দ রয়েছে কি না—এ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।যদি সরকারি জায়গাটি কোনো অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের মেয়াদ, শর্ত এবং বর্তমানে তা কার্যকর আছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রভাবশালী মহলের কারণে নীরবতা?অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র, জায়গাটির মালিকানা ও ব্যবহার-সংক্রান্ত অনুমোদন এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সরকারি সম্পত্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন,সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়মকানুন অনুসরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রায় ২০ বছর ধরে একই জায়গায় ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন—সমাজসেবা কমপ্লেক্সের জায়গাটি যদি সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের আড়ত পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? আর যদি কোনো বৈধ অনুমোদন থেকে থাকে, সেটির শর্ত কী এবং বর্তমানে তা বহাল আছে কি না—তারও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন,বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যাঁর বিরুদ্ধে বাঁশের আড়ত পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা প্রয়োজন।অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সরকারি নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।