মাদক মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা বগুড়ার ধুনট উপজেলার মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে মানিক ওরফে আঙ্গুর (৫৩) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন ধুনট উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের খাদুলী গ্রামের মো. আলতাব আলীর ছেলে।এসআরবি-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজ্ড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া এবং এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধার যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলায় আদালত আনোয়ার হোসেনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক ছিলেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পারে, সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আনোয়ার হোসেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ঢোলভাঙ্গা বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। তথ্যটি যাচাই করে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে ঢোলভাঙ্গা বাজার এলাকায় তামিম ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ওয়ার্কশপের সামনে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়।পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায় মামলা নম্বর-৩৪(১২)২০, জিআর-৪৭২/২০ এবং মামলা নম্বর-২৮(০৯)২১, জিআর-৪২৭/২১ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১)-এর ১০(ক) ধারায় দায়ের করা মামলায় আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।গ্রেপ্তারের পর আনোয়ার হোসেনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়ার ধুনট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের সাজা কার্যকর এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।