ট্রলার-ফেরি সংঘর্ষে নিখোঁজের পর ভেসে উঠল প্রাণহীন দেহ; পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তা
খুলনার ভৈরব নদীতে ট্রলার ও ফেরির সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর রাকিব খান (২৮)-এর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ।দীর্ঘ আট দিনের উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার অবসান হলেও প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে এখন শোকে পাথর পরিবার ।এমন হৃদয়বিদারক সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন খুলনার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত ।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খবর পেয়ে রাকিবের বাড়িতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক । তিনি নিহতের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন ।এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে রাকিবের পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক তাদের এই কঠিন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন ।এ সময় দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।আট দিনের অপেক্ষার অবসান, ফিরল শুধু নিথর দেহ । এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোট ইউনিয়নের শিয়ালীডাঙ্গা এলাকার কাছাকাছি পশুর নদীর পূর্বপাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় রাকিব খানের মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ ।গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা জেলখানা ঘাট এলাকায় ট্রলার ও ফেরির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন রাকিব।দুর্ঘটনার পর স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় উৎকণ্ঠা, আর নদীতে চলে সন্ধান । অবশেষে আট দিন পর মিলল রাকিবের মরদেহ।নিহত রাকিব খান দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রামের মৃত বাকের খানের ছেলে ।রাকিবের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের দেখা মিললেও সেই দেখা ছিল নিথর দেহে । স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ ।
এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় কিছুটা হলেও মানবিক সহায়তা পেয়েছে অসহায় পরিবারটি । প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত রাকিবের পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে ।