প্রতিটি মানুষের জীবনই একটি গল্প। কারও গল্পে থাকে সাফল্যের উজ্জ্বল অধ্যায়, কারও জীবনে থাকে সংগ্রাম, অপেক্ষা, ভালোবাসা আর হারানোর বেদনা। আবার কারও জীবনের সেই অনুভূতিগুলো একসময় শব্দ হয়ে কাগজে ফুটে ওঠে।
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম তেমনই একজন স্বপ্নবান মানুষ, যিনি নিজের জীবনের অনুভূতি, ভালোবাসা, বিরহ, বাস্তবতা ও মানুষের মনের কথাকে কবিতার ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা করে চলেছেন।
তাঁর কবিতার পথচলার পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, শৈশবের স্মৃতি, প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস।
অধ্যায় এক
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম ২০০২ সালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ০৭নং ঢালজোড়া ইউনিয়নের বাসুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা রমজান আলী এবং মাতা শাহানাজ বেগম। বাবা-মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের পথচলা শুরু হলেও শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে মামাবাড়িতে।
মামাবাড়ির পরিবেশেই তাঁর শৈশবের অনেক স্মৃতি গড়ে ওঠে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন তিনি। জীবনের প্রথম দিকের এই অভিজ্ঞতাগুলো পরবর্তীতে তাঁর চিন্তা, অনুভূতি ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধ্যায় দুই
শৈশব থেকে কৈশোর
ছোটবেলা থেকেই তাঁর জীবন ছিল নানা অভিজ্ঞতায় ভরা। মামাবাড়িতে বেড়ে ওঠার পর জীবনের এক পর্যায়ে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।
২০১৪ সালের শুরুর দিকে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন এবং নিজের এলাকায় নতুনভাবে জীবন শুরু করেন। গ্রামের বাড়ির ছোট্ট ঘরে বাবা-মা ও ছোট বোনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক জীবন কাটতে থাকে।
গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশ, পরিবারের মানুষের ভালোবাসা এবং চারপাশের মানুষের জীবনযাপন তাঁর চিন্তার জগতে নানা অনুভূতির জন্ম দেয়। মানুষের সুখ-দুঃখকে কাছ থেকে দেখা এবং নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে ধীরে ধীরে সংবেদনশীল করে তোলে।
অধ্যায় তিন
শিক্ষাজীবন
জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষা একজন মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে। বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলামও তাঁর শিক্ষাজীবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
তিনি ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জীবনের নানা ব্যস্ততা ও বাস্তবতার মধ্যেও শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ হারিয়ে যায়নি।
২০২৬ সালে তিনি নতুন করে আবার পড়াশোনা শুরু করেন।
তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে—জীবনে কোনো একটি সময় থেমে গেলেও স্বপ্ন থেমে থাকতে হয় না। ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকলে মানুষ নতুন করে নিজের পথ তৈরি করতে পারে।
অধ্যায় চার
ভালোবাসা থেকে বিরহ, বিরহ থেকে কবিতা
একজন কবির কলমের পেছনে কখনো থাকে কল্পনা, কখনো থাকে বাস্তবতা। আবার কখনো থাকে এমন কোনো অনুভূতি, যা হৃদয়ের গভীরে দাগ কেটে যায়।
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলামের কবিতা লেখার পেছনেও রয়েছে ভালোবাসা ও হারানোর একটি আবেগঘন গল্প।
নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে একসময় তিনি একাকিত্ব ও গভীর অনুভূতির মুখোমুখি হন। সেই অনুভূতিগুলোই ধীরে ধীরে তাঁর মনে কবিতা লেখার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি নতুন করে কবিতা লেখা শুরু করেন।
তাঁর লেখা প্রথম কবিতার নাম “বিয়ের শাড়ি”।
কবিতাটি তাঁর কাছে বিশেষভাবে প্রিয়। কারণ, এই কবিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর মনের একটি স্বপ্ন। তিনি তাঁর ভালোবাসার মানুষকে নতুন করে বিয়ের শাড়িতে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই মানুষটি তাঁর জীবন থেকে দূরে চলে যাওয়ার পর অপূর্ণ স্বপ্ন ও বিরহের অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় “বিয়ের শাড়ি” কবিতাটি।
সেই থেকেই তাঁর কলমে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, অপেক্ষা, অভিমান ও জীবনের নানা অনুভূতি কবিতার রূপ পেতে শুরু করে।
অধ্যায় পাঁচ
“বিরহ কবি” নামের পরিচয়
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি।
ভালোবাসার আনন্দ যেমন তাঁর কবিতায় স্থান পায়, তেমনি বিচ্ছেদের কষ্ট, প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা, একাকিত্ব এবং জীবনের বাস্তবতাও তাঁর লেখায় উঠে আসে।
এভাবেই তিনি নিজের জন্য বেছে নেন একটি পরিচয়—
“বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম”
এই নামের মধ্যেই যেন তাঁর কবিতার আবেগ, অনুভূতি ও জীবনের একটি অধ্যায় লুকিয়ে আছে।
তিনি মনে করেন, মানুষের হৃদয়ে জমে থাকা না-বলা কথাগুলো কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। তাই তাঁর কলম হয়ে ওঠে মনের কথার একটি মাধ্যম।
অধ্যায় ছয়
পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ
কবিতা লেখার পাশাপাশি তাঁর লেখালেখির পথ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে।
২০২৬ সালের ১ মে তাঁর লেখা কবিতা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা
দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
জাতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পত্রিকার পাতায় নিজের লেখা প্রকাশিত হওয়া তাঁর কবিজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এটি তাঁকে আরও উৎসাহিত করে এবং সাহিত্যচর্চার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।
অধ্যায় সাত
কবির পাশাপাশি সাংবাদিক
কবিতার পাশাপাশি মোঃ খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত।
একদিকে তিনি মানুষের মনের কথা কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরতে চান, অন্যদিকে সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য ও বাস্তবতার কথা মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
তাঁর কাছে সত্য ও সুন্দর চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কথা বলা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর স্বপ্নের একটি বড় অংশ।
অধ্যায় আট
মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন
একজন কবির স্বপ্ন শুধু কবিতা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্নও তাঁর মনে রয়েছে।
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম ভবিষ্যতে নিজেকে একজন জাতীয় কবি হিসেবে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করতে চান।
তাঁর আরও একটি বড় স্বপ্ন হলো মানবসেবা করা এবং অন্যদেরও মানবসেবায় উৎসাহিত করা।
তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় পরিচয় আর কিছু হতে পারে না। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর হৃদয়ে লালিত হচ্ছে।
অধ্যায় নয়
স্বপ্নের আগামী দিন
আজ তিনি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন, সেটি তাঁর পথচলার শেষ নয়; বরং নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু।
শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক জীবন, শিক্ষাজীবনের ওঠানামা, ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা এবং সেই বেদনা থেকে কবিতার জন্ম—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর জীবন একটি চলমান গল্প।
তিনি চান তাঁর কবিতা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিক। তাঁর লেখা যেন পাঠকের নিজের জীবনের কোনো অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর কলম যেন মানুষের ভালোবাসা, কষ্ট, স্বপ্ন ও বাস্তবতার কথা বলে যায়।
অধ্যায় দশম
পুরস্কার জেতা
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম সাংবাদিক হিসেবে গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসাবে দৈনিক প্রতিচ্ছবি-এর শ্রেষ্ঠ সংবাদদাতা হিসেবে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ সংবাদদাতা সার্টিফিকেট, প্রত্যয়নপত্র, সনদ ও টি-শার্ট পেয়েছেন।
উপসংহার
একজন স্বপ্নবান কবির পথচলা
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলামের জীবনযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনে হারিয়ে যাওয়া মানেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। কখনো কখনো হারানোর মধ্য থেকেই নতুন সৃষ্টির জন্ম হয়।
ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা তাঁর জীবনে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, সেই শূন্যতাই একসময় কবিতার শব্দে পূর্ণ হতে শুরু করে।
মামাবাড়ির শৈশব থেকে নিজের গ্রামে ফিরে আসা, শিক্ষাজীবনের পথচলা, নতুন করে পড়াশোনা শুরু করা, কবিতার জগতে প্রবেশ, পত্রিকায় লেখা প্রকাশ এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন এখনো নির্মাণাধীন একটি গল্প।
তাঁর সামনে রয়েছে আরও অনেক পথ, আরও অনেক স্বপ্ন।
একদিন তাঁর কলম দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে—এই প্রত্যাশাই তাঁর সাহিত্যযাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম
কবি | লেখক | সাংবাদিক
“জীবনের না-বলা কথাগুলোই একদিন কবিতার ভাষা হয়ে ফিরে আসে।”