আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ও বিশ্বজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের পর থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর দেখা যাবে না ফুটবল জাদুকরকে। এবার সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামবেন না তিনি।নিজের বিদায়ী বার্তায় মেসি লিখেছেন, “ফাইনালের পর এতটা সময় কেটে যাওয়ার পর এবং অনেক ভেবে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। সিদ্ধান্তটি নিতে খুব কষ্ট হয়েছে এবং এখনো আত্মায় ব্যথা দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়।”আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি নিজের নিবেদন নিয়েও কথা বলেছেন এই কিংবদন্তি। মেসির ভাষায়, “আমি শপথ করে বলতে পারি, সব সময় নিজের সবটুকু দিয়েছি। শুধু শেষ কয়েক বছরে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সব সময় লড়েছি, সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে চেয়েছি।”বিদায়ের সিদ্ধান্তের পেছনে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি লিখেছেন,“সময় খুব বেশি বাকি নেই, একে একে অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটাও এমন একটি অধ্যায়, যেটি শেষ করতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। জাতীয় দলে থাকতে আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সব সময় ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। আর পেছনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এই জায়গার যোগ্য।”সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, “এই ২০ বছরের ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের আওয়াজ শোনা খুব মিস করব। এখন থেকে আমি আপনাদেরই একজন। বাইরে থেকে সব সময় সমর্থন করে যাব—ভালো সময়ে, আর খারাপ সময়ে আরও বেশি।”
পরিবার, কোচ, সতীর্থ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিদায়ী বার্তায় মেসি বলেন, “আমার পরিবারকে ধন্যবাদ, সব সময় পাশে থাকার জন্য এবং এত সুন্দর কিন্তু কঠিন এই যাত্রায় সঙ্গ দেওয়ার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে পথচলা হয়েছে, সবাইকে ধন্যবাদ। অসংখ্য স্মৃতি এবং অবিস্মরণীয় মুহূর্ত সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।”বিদায়ের মুহূর্তে নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। তিনি লিখেছেন, “আমি শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, কারণ সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, যেগুলো আমরা স্বপ্নেও দেখেছি। আপনাদের সঙ্গে এগুলো অনুভব করাটা ছিল পাগলাটে এক অভিজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসি।”সবশেষে মেসির আবেগঘন বার্তা, “আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা।”২০০৫ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল মেসির। তবে সেই অভিষেক ম্যাচেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক কিংবদন্তির উত্থানের গল্প।
দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য সাফল্য। জিতেছেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ, টানা দুটি কোপা আমেরিকা এবং দেশের ফুটবল ইতিহাসে লিখেছেন এক অনন্য অধ্যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ৩৯ বছর বয়সে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে।