কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ৬নং আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সীমানার ভেতরে থাকা সরকারি ৬টি গাছ রাতের আঁধারে কেটে স-মিলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আ: মন্নাফের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পত্তি নিয়ে এমন অভিযোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগকারী ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান ও আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ পলাশ মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সীমানার ভেতরে থাকা সরকারি গাছগুলো কাটার বিষয়ে তিনি কিংবা পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যরা কিছুই জানতেন না। তার অভিযোগ, চেয়ারম্যান মন্নাফ রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে স-মিলে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি টাকা দেখিয়ে ভাউচার করার ঘটনা ঘটছে। তার দাবি, ১০ হাজার টাকার কাজকে ৩০ হাজার টাকা দেখিয়ে ভাউচার করার মতো অনিয়মও করা হচ্ছে।আদমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ সাদেক মিয়া বলেন, সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও বিধিবিধান রয়েছে। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কীভাবে কেটে বিক্রি করা হলো, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা ও বিক্রির ঘটনা সত্য হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল করিম বাদল বলেন, তার বাবা মরহুম মোঃ ছমির উদ্দিন আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ওই গাছগুলো লাগানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।বাদল অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আ: মন্নাফ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। সরকারি সম্পত্তি নিয়ে এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আ: মন্নাফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে চিঠি দেওয়ার পরই তিনি গাছগুলো কর্তন করেছেন।চেয়ারম্যান মন্নাফ বলেন, গাছ বিক্রি করে দেওয়া কিংবা অনুমতি ছাড়া গাছ কর্তনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র এসব অভিযোগ প্রচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এবিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল আহাদ জানান, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি আগের ইউএনও-কে বিষয়টি জানিয়েছে কি-না সেটা আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।তবে অভিযোগকারীরা গাছ কর্তনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন এবং গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান ও বিক্রির বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি সম্পত্তির গাছ কাটার ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল এবং গাছগুলো কেটে থাকলে সেগুলোর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কী হয়েছে, এসব বিষয় প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
এদিকে, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আদমপুর ইউনিয়নে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।গাছ কাটার অনুমোদন, কর্তনের কারণ, গাছের সংখ্যা, গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান এবং বিক্রির অভিযোগের সত্যতা—সবকিছু খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।