বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে পথরোধ করে উত্ত্যক্ত, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা (মুন্সিপাড়া) গ্রামের ওই ছাত্রী ফুলতলা দাখিল মাদরাসায় পড়াশোনা করে। এজাহারে বলা হয়েছে, একই এলাকার জিসান (১৬) দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসায় যাতায়াতের সময় ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করত। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বিকেল পৌনে ৪টার দিকে খাতা-কলম কেনার জন্য নওদাপাড়া বাজারে যায় ওই ছাত্রী। কেনাকাটা শেষে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে নওদাপাড়া গ্রামের একটি চাতালের সামনে জিসান তার পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় জিসান ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব গ্রহণের জন্য চাপ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফুলে যাওয়ার মতো জখম হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয় শাহনাজ বেগম, আমেনা বেগম ও হালিমা বেগমসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয়দেরও আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিসান বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।