
আকাশ দাশ সৈকত
চোট জর্জরিত শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ব্রাজিল জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার পর অবশেষে ‘সেলেসাও’দের জার্সিকে বিদায় বললেন নেইমার জুনিয়র।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ফেভারিটের তকমা নিয়ে মাঠে না নামলেও কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে দারুণ পারফর্ম করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ পা রেখেছিল ব্রাজিল। এরপর শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তবে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে অপ্রত্যাশিতভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। সেই ম্যাচে নেইমারের গোলটি কেবল ব্রাজিলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছিল। ম্যাচ শেষে কাঁদাতে কাঁদাতে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি অবসরের ইঙ্গিত দেন। ভক্তরা নানা হিসাব-নিকাশ মেলালেও নেইমার নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জাতীয় দলে তাঁর অধ্যায় শেষ।
গতকাল (মঙ্গলবার) কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে ৪-২ গোলে হারায় সান্তোস। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছি। এই হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত ও জীবন উজাড় করে দিয়েছি। তবে এখন আর এটি চালিয়ে যেতে চাই না।”
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া নেইমার ব্রাজিল সিনিয়র দলের হয়ে মোট ১৩০টি ম্যাচে ৮০টি গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের একমাত্র মূল শিরোপাটি ছিল ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। এ ছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন তিনি।


