ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মেধাবী তরুণ মো. আলামিন হোসেনের। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম অর্থসংকট। অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছেড়ে গ্রামের জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ফিরে এসেছেন ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী।আলামিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে কুষ্টিয়ার নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।আলামিনের বাবা আলেফ আলী একজন দিনমজুর ও ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন তিনি। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাতে হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও ঋণের চাপে আলামিনের মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুতে পরিবারটি আরও কঠিন সংকটের মুখে পড়ে।মায়ের মৃত্যুর শোক ও পারিবারিক প্রতিকূলতা সামলে গ্রামের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান আলামিন। কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫২৬তম স্থান অর্জন করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও নতুন করে দেখা দেয় অর্থনৈতিক সংকট। ঢাকায় থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে মাসে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু ভ্যানচালক বাবার পক্ষে নিয়মিত এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।ফলে যে তরুণের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতি—অর্থের অভাবে এখন তাকেই গ্রামের জরাজীর্ণ ঘরে বসে দিন কাটাতে হচ্ছে। অন্যদিকে তাঁর সহপাঠীরা যখন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আলামিন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।আলামিনের স্বপ্ন—উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করা। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন আজ থমকে যাওয়ার পথে।
সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ আবারও সচল হতে পারে। সামান্য সহযোগিতাও হয়তো আলামিনের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে এবং বাঁচিয়ে রাখতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন।