এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শেরপুরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের পল্লী উন্নয়ন, টেকসই পরিকল্পনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনার সমন্বয়ের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি, মোশাররফ হোসেন এমপি এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি। তাঁরা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আরডিএর কর্মকর্তাবৃন্দ, গবেষক, উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং আমন্ত্রিত সুধীজন অংশ নেন।
সম্মেলনে আগামী বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, টেকসই পল্লী উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন উদ্যোগ এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আরডিএর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্মেলন শেষে দেশের পল্লী উন্নয়নে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।