এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ আগামী ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একদল প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি শুরু থেকেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তারা মনে করেন। তাদের অভিযোগ, একটি প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পত্রিকায় নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই প্যানেলের উদ্যোগে ভোটারদের নিয়ে একাধিক ভোজসভার আয়োজন করা হলেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে ভোটার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পূর্বঘোষিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছিল যে, প্রত্যেক ভোটারকে নিজে উপস্থিত হয়ে তার আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে মাত্র দুইজন ব্যক্তির স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ ভোটার আইডি কার্ড উত্তোলন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তাদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট প্যানেলের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে ভোটারদের তাদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নজরে আনা হলে প্রথমে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সভাপতি পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান বাদলের প্রতিষ্ঠানের একজন ম্যানেজার এবং একই প্রতিষ্ঠানের স্টাফ রফিকুলের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক আইডি কার্ড উত্তোলন করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেম্বারের অফিস সেক্রেটারি মাসুদ রানা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামগ্রিক আচরণে তাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, একটি বিশেষ প্যানেলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে তারা গভীর উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অবিলম্বে বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাতিল করে একটি নতুন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্যানেলের বিরুদ্ধে নয়; বরং একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থেই এসব অভিযোগ জনসম্মুখে তুলে ধরছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”