ঝিনাইদহে ক্রমশ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারী মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা। আধুনিকতার মুখোশ পরে এক শ্রেণির নারী মাদক কারবারি কৌশলে ছড়িয়ে দিচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণীদের টার্গেট করে মাদকের মরণফাঁদে ফেলছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। মাদকের অর্থ জোগাতে পরবর্তীতে তাদের জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে অনৈতিক দেহ ব্যবসায়।
ঝিনাইদহের ডিবি পুলিশের অগ্রগামী ভূমিকার কারণে প্রায়ই গ্রেপ্তার হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা, আর গ্রেপ্তারের সূত্র ধরেই সামনে আসছে একের পর এক নারী মাদক ব্যবসায়ী।
গত মঙ্গলবার ঝিনাইদহে নারী মাদক কারবারিদের নতুন কৌশলে ঝুঁকির মুখে তরুণ প্রজন্ম
আটককৃতরা হলেন: মো. রাজিব মন্ডল (৩৫), পিতা- মো. রমজান মন্ডল, সাং- লাউদিয়া; মো. ইমরান হোসেন (ইমন) (২৫), পিতা- মো. আসাদুজ্জামান, সাং- ভড়ুয়াপাড়া; এবং মুনিয়া উম্মেজান অর্ণি (২৪), পিতা- আব্দুল ওয়াদুদ, সাং- দুধম্বর চরপাড়া, শৈলকুপা (বর্তমানে কালিকাপুর পশ্চিমপাড়ার মোল্লাপাড়ায় ভাড়াটিয়া)। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
যদিও ঝিনাইদহ পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে, তবুও নিত্যনতুন কৌশল পাল্টাচ্ছে মুখোশের আড়ালে থাকা মূলহোতারা। মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন কৌশলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ঝিনাইদহের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় আলিশান বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মাদকের আস্তানা ও মিনি পতিতালয়। নারী মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের নারীত্বের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে চালাচ্ছে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঝিনাইদহ শহরে নারীদের দিয়ে ‘এসকর্ট সার্ভিস’ চালাচ্ছে মুর্শিদা নামের এক অঘোষিত ‘আপা’। এছাড়াও আরও কিছু অতিপরিচিত নাম শহরের বাতাসে ভেসে বেড়ায়, তাদের মধ্যে অন্যতম, তানিয়া, শাম্মী, জ্যোতি, অ্যানী, মারিয়া, তন্নীসহ আরও অনেকে। যাদের সঙ্গে জেলার অধিকাংশ ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতা, ক্যাডার বা মাস্তানদের রয়েছে দহরম-মহরম সম্পর্ক। এই সকল মেয়েরা স্থানীয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের সাথে সখ্য গড়ে তুলে প্রথমে তাদের মাদকাসক্ত করছে, পরবর্তীতে খরচের টাকা জোগাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেহ ব্যবসায় নামাচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যে সকল মিনি পতিতালয় গড়ে উঠেছে, সেসব স্থানে চলে নিয়মিত মাদকের আড্ডা, কেনাবেচা ও দেহ ব্যবসা। আর সব থেকে ভয়াবহ যে বিষয়টি নিয়মিত ঘটছে সেটি হলো ‘হানি ট্র্যাপ’। এই সকল বাসা-বাড়িতে কৌশলে মেয়েদের দিয়ে শহরের অভিজাত শ্রেণির মধ্যবয়স্ক লোকজন ডেকে এনে লুটে নেওয়া হচ্ছে সবকিছু। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে সারা জীবন তাদেরকে চুষে খাচ্ছে এই সিন্ডিকেট। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত সিন্ডিকেটকে আশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা পরিচয়দানকারীরা।
এই সকল অপকর্মের দৌরাত্ম্যে ঝিনাইদহের তরুণ সমাজ এক চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিভাবক মহলে বিরাজ করছে তীব্র উদ্বেগ। স্থানীয়দের একটাই দাবি মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখে দিতে জেলা পুলিশ প্রশাসন যেন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কঠোর ও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে। ঝিনাইদহের সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল গ্রেপ্তার নয়, বরং এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনলেই কেবল এই জনপদকে মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব।