ধানমন্ডির রাস্তা এখন আর শুধু লেক আর ক্যাফের না। ধানমন্ডির রাস্তা এখন “লাঠির রাস্তা”। গতকাল এক সাংবাদিককে মারধর করা হলো। কারণ? খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিল। চোখে ক্যামেরা ছিল, হাতে নোটবুক ছিল, মুখে প্রশ্ন ছিল। অপরাধ একটাই – সত্য জানতে চাওয়া।ঘটনার পর দলীয় শাস্তি আসলো দ্রুত। জড়িত ৪ জন জামাত কর্মীকে বহিষ্কার। ভালো সিদ্ধান্ত। দেরিতে হলেও। কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়।
ধানমন্ডিতে জামাতকর্মী দ্বারা সাংবাদিক পেটানো ছবি
১. বহিষ্কারই কি শেষ কথা।
বহিষ্কার মানে দলীয় পদ গেল। কিন্তু পুলিশের মামলা গেল? সাংবাদিকের রক্তের দাগ মুছলো? কলম ভাঙলে দল থেকে বের করে দিলেই কলম জোড়া লাগে না। সাংবাদিক পেটানোর কালচারটা পুরনো। কখনো ছাত্রলীগ, কখনো যুবদল, কখনো জামাত-শিবির। নাম বদলায়, লাঠি একই থাকে। আর ভিকটিম সবসময় চতুর্থ স্তম্ভ।
২. সাংবাদিক কি প্রতিপক্ষ?
যারা মারলো তারা ভাবলো – সাংবাদিক মানে শত্রু। ক্যামেরা মানে ষড়যন্ত্র। প্রশ্ন মানে অপমান। এই মানসিকতাই গণতন্ত্রের জন্য বিষ। গণতন্ত্রে সাংবাদিকের কাজ সরকারের ভুল ধরা, বিরোধীর ভুল ধরা, সমাজের ভুল ধরা। আজ তাকে মারলে, কাল আপনাকে মারবে। কারণ আজ আপনার পক্ষে কলম লিখছে, কাল আপনার বিপক্ষে লিখবে। কলম কারো কেনা গোলাম না।
৩. জামাতের শিক্ষা কী?
দল ৪ জনকে বহিষ্কার করে “জিরো টলারেন্স” দেখালো। এটা প্রশংসনীয়। কিন্তু জিরো টলারেন্স শুধু ধরা পড়লে কেন? ক্যামেরার সামনে মারলে বহিষ্কার, ক্যামেরার আড়ালে মারলে পদোন্নতি – এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চলবে না। আমরা সাংবাদিকরা সব জানি, দলের একজন কর্মী তৈরি করতে দলের প্রধানরা কে কি কাজ করেন।
নেতৃত্বকে ঠিক করতে হবে: কর্মী তৈরি করবেন নাকি গুন্ডা তৈরি করবেন? রাজনীতি শেখাবেন নাকি লাঠি চালানো শেখাবেন?
শেষ কথা: কলম ভাঙে না।
ধানমন্ডির ঐ সাংবাদিক আজ হাসপাতালে। মাথায় ব্যান্ডেজ, হাতে ব্যথা। কিন্তু তার কলম ভাঙে নাই। কারণ কলম থাকে মাথায়, হাতে না।আমরা চাই বিচার। শুধু বহিষ্কার না, ফৌজদারি মামলা। সাংবাদিক নির্যাতন আইনে বিচার। যাতে পরেরবার কোনো কর্মী লাঠি তোলার আগে ১০ বার ভাবে – “লাঠির বাড়ি আমার পিঠেও পড়তে পারে”।ধানমন্ডির লেকের পানি পরিষ্কার। ধানমন্ডির রাজনীতিও পরিষ্কার হোক। লাঠি দিয়ে না, যুক্তি দিয়ে।
শেষ কথা: সাংবাদিক মারলে খবর চাপা পড়ে না। খবর ডাবল হয়ে যায়। আজকের মারধরের খবরটাই তো তার বড় প্রমাণ।