নির্বাচন নিয়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশে একটি গণতান্ত্রিক আইন আছে। প্রত্যেক দেশে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন এবং নির্বাচনের পরে নির্বাচিতরাই সরকার গঠনে সাংবিধানিক আইন মেনে নতুন সরকার গঠন করে। এখানে নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সেখানে হার-জিত থাকবেই,এটাই স্বাভাবিক। কেউ জয়ী হবে, কেউ পরাজিত হবে—কিন্তু তাই বলে সংঘাত, মারামারি, কাটাকাটি কিংবা হানাহানি কখনোই কাম্য হতে পারে না। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সেই মতভেদের কারণে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা বা একে অপরের রক্ত ঝরানো কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য নয়।
বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ সৃষ্টি করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তারা সমাজ ও দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধর্ম যার যার, দেশ সবার। একজন মানুষ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান হতে পারেন, কিন্তু সবার আগে তিনি একজন মানুষ এবং একজন নাগরিক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা সত্যিই একটি জঘন্য রাজনীতি। এই ধরনের অপচেষ্টা সমাজকে অশান্ত করে তোলে, মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ায় এবং দেশের উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করে।
আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু ত্যাগের বিনিময়ে চেয়েছিলেন একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ ও পৃথিবী গড়ে তুলতে, কিন্তু আজ কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের লাভের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছে। নির্বাচনের সময় গুজব ছড়ানো, ধর্মীয় উসকানি দেওয়া, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কিংবা প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য ও মানবিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আমরা যদি সত্যিকার অর্থে মানুষকে ভালোবাসি দেশকে ভালোবাসি, তাহলে আমাদের সকল ধরনের হিংসা ও বিভেদ থেকে দূরে থাকতে হবে। নির্বাচন শেষে আমরা সবাই একই দেশের নাগরিক, একই মাটির সন্তান। তাই রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং মানবতার মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।
যারা ধর্মের নামে বিভেদ ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা দিতে হবে যে, মানুষে মানুষের জন্য, ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির জন্য মানুষের জীবন নষ্ট হতে পারে না। একটি ভোটের জন্য যদি মানুষের মধ্যে ঘৃণা জন্মায়, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।
তাই আমরা বাঙালি জাতি এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ও হিংসাত্মক রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ ও পৃথিবী গড়ে তুলি যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ, থাকবে না হিংসা বা প্রতিহিংসা; থাকবে শুধু মানবতা, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা। তাহলেই এই পৃথিবীটা সত্যিকার অর্থে উন্নত ও সুন্দর হয়ে উঠবে। হিংসা বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা, একে অপরের ভেদাভেদ ভুলে মানবতার শান্তি কামনায় এবং সুস্থ সমাজ গঠনে একত্রিত হই। একটি সুস্থ সমাজ কাঠামো বদলে দিতে পারে একটি রাষ্ট্রের অশুভ চিত্র। তাই আমরা একে অপরের প্রতি হিংসার আগুনে না জ্বলে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অংশগ্রহণ করি। রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাত, মারামারি, কাটাকাটি কিংবা হানাহানি কখনোই একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা কাম্য হতে পারে না। তাই এসব রাজনৈতিক সংঘাত বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী।